ঢাকা শনিবার, ১৮ মে ২০২৪

এখনও কেউ করোনায় আক্রান্ত হয়নি, দাবি তুর্কমেনিস্তানের

এখনও কেউ করোনায় আক্রান্ত হয়নি, দাবি তুর্কমেনিস্তানের

তুর্কমেনিস্তানে মঙ্গলবার ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস’ উদযাপনের জন্য গণসাইকেল র‌্যালির আয়োজন করা হয়।

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৮ এপ্রিল ২০২০ | ০৬:০৩ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০

করোনাভাইরাসের মহামারিতে ওলট-পালট হয়ে যাচ্ছে বিশ্ব। একের পর এক দেশে সংক্রমণ ছড়াচ্ছে এই প্রাণঘাতী ভাইরাস।

তবে একটি দেশ দাবি করছে, তাদের এখনও কোনো নাগরিক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়নি।

দেশটির নাম তুর্কমেনিস্তান। করোনাভাইরাস ঠেকাতে অন্যান্য দেশ যখন সবকিছু লকডাউন জারি করছে, তখন তুর্কমেনিস্তানে মঙ্গলবার ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস’ উদযাপনের জন্য গণসাইকেল র‌্যালির আয়োজন করা হয়। খবর বিবিসির

মধ্য এশিয়ার এই দেশটি দাবি করছে, করোনাভাইরাসের একটি ঘটনাও ধরা পড়েনি সেখানে।  তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশটির সরকার তথ্য গোপন করছে।

লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিনের অধ্যাপক মার্টিন ম্যাককি বলেন, ‘তুর্কমেনিস্তানের সরকার স্বাস্থ্য সম্পর্কিত যেসব তথ্য প্রকাশ করে, সেগুলোর একেবারেই বিশ্বাসযোগ্যতা নেই।’

তিনি বলেন, গত এক দশক ধরে ওরা দাবি করছে, সে দেশে নাকি কোনো এইচআইভি/এইডস আক্রান্ত মানুষ নেই। এটা মোটেই বিশ্বাসযোগ্য নয়। আমরা এটাও ভালো করেই জানি এই শতকের প্রথম দশকে সেদেশে প্লেগ থেকে শুরু করে অনেক রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা গেছে।

মার্টিন ম্যাককি বলেন, কোভিড-নাইনটিন সংক্রমণ হয়তো এরই মধ্যে তুর্কমেনিস্তানে ঘটে গেছে, কিন্তু ভয়ে দেশটির কোন মানুষ সেরকম ইঙ্গিত পর্যন্ত দিতে নারাজ। আমার পরিচিত একজন, যিনি একটি সরকারি সংস্থায় কাজ করেন, তার সঙ্গে কথা হচ্ছিল। তিনি বলেছেন, এই ভাইরাস এখানে আছে বা আমি শুনেছি ভাইরাসটি পাওয়া গেছে, এরকম কথা পর্যন্ত আমার বলা উচিৎ নয়। কারণ এতে আমার বিপদ হতে পারে।

তবে তুর্কমেনিস্তানের কর্তৃপক্ষ করোনাভাইরাস প্রতিরোধে কাজ করে যাচ্ছেন। জাতিসংঘের অঙ্গ সংস্থাগুলোর সঙ্গে মিলে তারা একটি পরিকল্পনাও তৈরি করছেন।

তুর্কমেনিস্তানে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক এলেনা পানোভা বলেন, এই পরিকল্পনায় দেশটির সব পর্যায়ে সমন্বয়, ঝুঁকি সম্পর্কে জনগণকে সতর্ক করা, প্রতিটি ঘটনা তদন্ত করা- সব ব্যবস্থারই করা হবে। 

এলেনা পানোভা বলেন, মানুষের চলাফেরা সীমাবদ্ধ রাখার জন্য শুরুতে যে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল তার ফলেই হয়তো এখানে কোন সংক্রমণ এখনো পাওয়া যায়নি।

ফেব্রুয়ারীর শুরুতে চীন এবং অন্য কিছু দেশের সঙ্গে ফ্লাইট চলাচলও বন্ধ করে দেয় দেশটি। সব আন্তর্জাতিক ফ্লাইট অবতরণের জন্য রাজধানীর পরিবর্তে পাঠিয়ে দেওয়া হয় উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর তুর্কমেনাবাটে। সেখানে একটি কোয়ারেন্টাইন জোনও তৈরি করা হয়।

এলেনা পানোভা বলেন, যারা বিদেশ থেকে এসেছে এবং যাদের করোনাভাইরাসের লক্ষণ ছিল, তাদের সবাইকে পরীক্ষা করা হয়েছে। তবে তিনি বলতে পারেননি কত মানুষকে পরীক্ষা করা হয়েছে এবং তাদের কাছে কত টেস্টিং কিট আছে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ যদি ছড়িয়ে পড়ে, তার মোকাবিলা করতে তুর্কমেনিস্তান কতটা প্রস্তুত জানতে চাইলে এলেনা পানোভা বলেন, আমরা জানি না।  সরকারের পক্ষ থেকে আমাদের বলা হয়েছে তাদের একটা প্রস্তুতি আছে। আমরা তাদের কথাকে অবিশ্বাস করছি না। এখানকার হাসপাতালগুলো বেশ সুসজ্জিত

তবে যদি একটা মহামারি শুরু হয় অন্য যে কোন দেশের মতো এখানকার স্বাস্থ্য ব্যবস্থাও চাপের মুখে পড়বে। কাজেই যত প্রস্তুতিই থাক, সেটা পর্যাপ্ত নয়। সেজন্যে আমরা এখনি তাদের ভেন্টিলেটর এবং অন্যান্য সরঞ্জাম সংগ্রহ করতে বলছি-যোগ করেন তিনি।

তুর্কমেনিস্তানের প্রেসিডেন্ট গুরবাঙ্গুলি বেরডিমুখাআমেডভের নির্দেশ মেনে সব অফিস-আদালত-বাজারে একটি ভেষজ উপাদান ছড়িয়ে জীবাণুমুক্ত করা হচ্ছে। প্রেসিডেন্টের ধারণা, এই ভেষজ উপাদান ভাইরাস দমনে সাহায্য করবে। যদিও এর কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

কিন্তু বিশ্ব যখন অচল হয়ে পড়েছে, তখন তুর্কমেনিস্তানে জীবন চলছে স্বাভাবিক গতিতে। দোকানপাট, ক্যাফে, রেস্টুরেন্ট- সব খোলা। বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাচ্ছে মানুষ। কেউ মুখে মাস্ক পড়ছে না। বড় বড় জনসমাগম হয় এমন ধরণের অনুষ্ঠানও চলছে।


আরও পড়ুন

×