প্রথম আরব হিসেবে ম্যান বুকার পেলেন জোখা আলহারথি

প্রকাশ: ২২ মে ২০১৯      

অনলাইন ডেস্ক

জোখা আলহারথি— গেটি ইমেজেস

ওমানের ঔপন্যাসিক জোথা আলহারথি এ বছর ম্যান বুকার আন্তর্জাতিক পুরস্কার জয় করেছেন। এর মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো একজন আরব এই পুরস্কার পেলেন।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘সেলেস্টিয়াল বডিস’ উপন্যাসের জন্য এ বছর ব্রিটেনের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এ সাহিত্য পুরস্কার জিতেছেন জোখা আলহারথি।

ওমানে সামাজিক পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে চেষ্টা করছে— এমন তিন বোন এবং তাদের পরিবারকে উপজীব্য করেই লেখা তার উপন্যাসটি। বিচারকরা আলহারথির ঐশ্বর্যময় কল্পনাশক্তি, লেখার চিত্তাকর্ষক শৈলি এবং কাব্যিক অন্তর্দৃষ্টির প্রশংসা করেন।

জোখা আলহারথি এবং তার বইয়ের মার্কিন অনুবাদক মারিলিন বুথের মধ্যে ৫০ হাজার পাউন্ডের পুরস্কারের অর্থ ভাগাভাগি হবে। উল্লেখ্য, ‘সেলেস্টিয়াল বডিজ’ ইংরেজিতে অনুবাদ করা ওমানের প্রথম উপন্যাস।

পুরস্কার জয়ের পর প্রতিক্রিয়ায় জোখা আলহারথি সাংবাদিকদের বলেন, তিনি রোমাঞ্চিত বোধ করছেন এই ভেবে যে সমৃদ্ধ আরব সংস্কৃতির জন্য একটি জানালা খুলে গেল।

তিনি বলেন, এই লেখার অনুপ্রেরণা এসেছে তার নিজের দেশ ওমান থেকে। কিন্তু তিনি মনে করেন আন্তর্জাতিক পাঠকরাও এই গল্পের যেটি মূল বিষয়— স্বাধীনতা ও ভালোবাসার মতো মূল্যবোধের সঙ্গে নিজেদের জীবনের মিল দেখতে পাবেন।

বইটি প্রকাশ করেছে স্যান্ডস্টোন প্রেস, একটি নতুন প্রকাশনা সংস্থা। মাত্র চারজন পূর্ণকালীন কর্মী নিয়ে এই সংস্থা বছরে ২০ থেকে ২৫টি বই প্রকাশ করে। ম্যানবুকার পুরস্কার তাদের প্রকাশনা সংস্থার জন্যও এক বিরাট সাফল্য।

‘সেলেস্টিয়াল বডিজ’ উপন্যাসের কাহিনী আবর্তিত হয়েছে আল-আওয়াফি গ্রামকে ঘিরে। একটি সনাতনী সমাজ থেকে ঔপনিবেশ-উত্তর যুগে যে সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের ভেতর দিয়ে যাচ্ছিল ওমান, তিন বোনের মাধ্যমে সেই পরিবর্তন, বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ওমানিরা কীভাবে এই পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর চেষ্টা করছে তা দেখাতে চেয়েছেন জোখা আলহারথি।

তিনি বলেন, ‘এতে দাসপ্রথার বিষয়টি নিয়েও কথা রয়েছে। আমার মনে হয় এই আলোচনার সবচেয়ে উত্তম জায়গা হচ্ছে সাহিত্য।’

জোখা আলহারথি পড়াশোনা করেছেন যুক্তরাজ্যের এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ে। এর আগেও তার কিছু বই বেরিয়েছে। এসব বইয়ের মধ্যে দুটি ছোটগল্প সংকলন, একটি শিশুতোষ বই এবং তিনটি উপন্যাস রয়েছে।