অমিতই উত্তরসূরি, মিলতে পারে স্বরাষ্ট্র বা অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব

প্রকাশ: ২৮ মে ২০১৯      

অনলাইন ডেস্ক

নরেন্দ্র মোদি-অমিত শাহ

দ্বিতীয়বারের মতো ভারতের প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন নরেন্দ্র মোদি। পাশাপাশি বিজেপি সভাপতি অমিত শাহকেও উত্তরসূরি হিসেবে পাকাপাকিভাবে গড়ে নিতে চাইছেন। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।

নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য কে কে হবেন, তা নিয়ে বিজেপির অন্দরেও কৌতুহল বাড়ছে। এক বিজেপি নেতা বলেণ, মন্ত্রী কারা হবেন, তা কেবল নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহ জানেন। কিন্তু মোদি তার নতুন সরকারে অমিতকে উত্তরসূরি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে দেবেন। এখনই হোক বা অদূর ভবিষ্যতে। 

অনেকে বলছেন মন্ত্রী হলে অমিতকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেওয়া হতে পারে। আবার অনেকে বলছেন,  অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও তাকে দিতে পারেন মোদি।

তবে মন্ত্রিসভায় অমিত শাহ গেলে দল কে সামলাবেন- এই প্রশ্নটির উত্তরই এখন খুঁজে বেড়াচ্ছেন বিজেপি নেতারা। আরএসএসের একাংশ অবশ্য চাইছে, অমিতই সংগঠনের দায়িত্বে থাকুন। তিনি যেমন নিজেও পরিশ্রম করতে পারেন, তেমনই অন্যদেরও চাঙ্গা করতে পারেন। তাকে মন্ত্রিসভায় নিয়ে গেলে নিত্যদিন সেই কাজটি অন্য কারও পক্ষে করা সম্ভব নয়। ফলে এই বিষয়টি নিয়ে দল ও সংঘে এখনও দ্বিধা কাটেনি।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজনাথ সিংহের পরে নতুন সভাপতি বাছাই পর্বে অমিতের পাশাপাশি তালিকায় জগৎপ্রকাশ নড্ডার নামও ছিল। প্রধানমন্ত্রী যদি শেষ পর্যন্ত অমিতকে মন্ত্রিসভায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, সেক্ষেত্রে নড্ডাকেও দলের সভাপতি করা হতে পারে। উত্তরপ্রদেশের ভোট পরিচালনার দায়িত্বও এবার তাকে দেওয়া হয়েছিল। নড্ডা নিজে প্রচারের আলো বাঁচিয়ে কাজ করার পক্ষপাতী। সভাপতি হওয়ার দৌঁড়ে নিতিন গডকড়ীকেও রাখতে পারে আরএসএস। কিন্তু সংঘের সঙ্গে ‘অতি-ঘনিষ্ঠতা’র কারণে মোদী-শাহ তা মেনে নেবেন কি না, সে বিষয়ে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে। 

বিজেপির এক নেতা বলেন, পরিস্থিতি যা-ই হোক, অমিতই যে মোদির উত্তরসূরি হতে চলেছেন, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। চলতি বছরেই মোদি ৬৯ বছরে পা দেবেন। ৫ বছর পরে ৭৫ ছুঁয়ে ফেলবেন। অমিত এখন ৫৫, পাঁচ বছরে তার বয়স ৬০ বছর হবে। ফলে এখনই দল গুছিয়ে তাকে মন্ত্রিসভায় নিয়ে আসা হবে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে যে কোনও সময়ে সরকারের চারটি গুরুত্বপূর্ণ মনন্ত্রণালয়ের মধ্যে একটির দায়িত্ব তাকে দেওয়া হবে। 

তবে অমিতের টিমের কিছু সদস্যের মতে, ব্যক্তিগতভাবে সরকারে যাওয়ার থেকে এখন সভাপতি থাকতেই পছন্দ করবেন তিনি। 

অধিকাংশ নেতার দাবি, আগেরবার দিল্লি নতুন ছিল মোদি-শাহের কাছে। অরুণ জেটলিদের পরামর্শ নিতে হয়েছিল মন্ত্রী তালিকা চূড়ান্ত করতে। পাঁচ বছর পরে আর তা প্রয়োজন নেই। তার উপরে জেটলি অসুস্থ। সুষমা স্বরাজও ভোটে লড়েননি। সেক্ষেত্রে এই দুই নেতা মন্ত্রী না হলে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রাজনাথ সিংহের পাশাপাশি পীযূষ গয়ালের মতো নেতাও আসতে পারেন।

তবে সুষমাকে যদি মন্ত্রী করতে হয় তাহলে তাকে রাজ্যসভায় জিতিয়ে আনা হবে। কারণ, অমিত শাহ, রবিশঙ্কর প্রসাদ, স্মৃতি ইরানির মতো রাজ্যসভার সংসদ সদস্যরা এবারের লোকসভায় জিতে এসেছেন। 

রাহুল গান্ধীকে আমেথিতে হারানোর পরে স্মৃতিকেও গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় দেওয়া হবে। মন্ত্রিসভায় থাকছেন প্রকাশ জাভড়েকর, ধর্মেন্দ্র প্রধানরাও। আর আঞ্চলিক ভারসাম্য বজায় রেখে পশ্চিমবঙ্গ, কর্ণাটক, দিল্লি, উত্তরপ্রদেশসহ রাজ্যগুলিতে বাড়তি জোর তো থাকবেই। ভাবতে হবে শরিকদের কথাও। 

বিজেপির বিপুল ভোটে জয়ের পরে শরিকদের দর কষাকষির জায়গা অনেকটা দুর্বল হলেও তাদেরও গুরুত্ব দেবেন বিজেপি নেতৃত্ব।