বিয়ের চুক্তিতে নতুন শর্ত দিচ্ছেন সৌদি নারীরা

প্রকাশ: ২৬ জুন ২০১৯     আপডেট: ২৬ জুন ২০১৯      

অনলাইন ডেস্ক

বিয়ের সময় নিজের অধিকার আদায়ের জন্য সৌদি নারীদের শর্ত দেওয়া নতুন নয়। বিয়ের পর যাতে নারীরা নিজেদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেন, কাজ করতে পারেন এবং সম্পত্তির ভাগ পান এজন্য বিয়ের সময় শর্ত দেওয়ার নিয়ম আছে। 

তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিয়ের জন্য নতুন শর্ত দিচ্ছেন সৌদি নারীরা। বিয়ের চুক্তিতে তারা বিয়ের পরও গাড়ি চালানোর শর্ত জুড়ে দিচ্ছেন। সৌদিতে ২০১৮ সালের জুন মাসে নারীদের ওপর থেকে গাড়ি চালনার নিষেধাষ্ণা তুলে নেওয়া হয়।

এছাড়া আরও অনেক ধরণের শর্ত দিচ্ছেন নারীরা। এএফপিতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে একজন সৌদি পুরুষ জানান, বিয়ের পর তাকে ধূমেপান ছেড়ে দেওয়ার শর্ত দিয়েছেন তার হবু স্ত্রী।

সামাজিক মাধ্যমে আরেক সৌদি নারী বিয়ের জন্য তার কিছু শর্ত যোগ করেছেন। তিনি লিখেছেন, তাকে বিয়ে করলে দ্বিতীয় বিয়ে করা যাবে না। 

কেউ কেউ শর্ত দিচ্ছেন বিয়ের পর তারা বাইরে কাজ করতে চান। কেউবা বলছেন নিজেদের বেতন স্বামীর সঙ্গে তারা ভাগাভাগি করবেন না। কারও দাবী, বাচ্চা নেওয়ার ব্যাপারেও তাদের মতামত গুরুত্ব পাবে। 

এইসব শর্ত ভঙ্গ হলে তারা বিাবহবিচ্ছেদ করবেন এমন চুক্তিও করছেন সৌদি নারীরা।

অনেক স্বামীই স্ত্রীদের এমন শর্ত ইতিবাচকভাবে দেখছেন। ২৯ বছর বয়সী মাজেদ নামের একজন সৌদি নাগরিক বলেন, ‘আমার হবু স্ত্রী স্বনির্ভর হতে চায়। তাকে বলেছি এতে আমার কোনও সমস্যা নেই’।

বিয়ের সময় দেওয়া নানা শর্ত সৌদি নারীদের আরও বেশি স্বাধীনতা দেবে বলে অনেকেই মনে করছেন। কেউ কেউ আবার বিয়ের আগে এমন শর্ত দেওয়া অপমানজনক ও স্বামীকে বিশ্বাস না করার মানসিকতাও মনে করছেন।

আরব বিশ্বে দীর্ঘদিন ধরেই পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা চলছে। পুরুষরা কখনই নারীদের কথা শুনতো না।নারীদের মতামত গুরুত্ব পেত না। স্বামী যা বলতো স্ত্রীদের তাই শুনতে হতো। কিন্তু এখন দিন বদলেছে। পুরুষরাও নারীদের সহমর্মী হয়ে তাদের কথা শুনতে আগ্রহী হচ্ছেন। 

বিয়ের পর কত নারী স্বনির্ভর হওয়ার জন্য এইসব শর্ত জুড়ে দিচ্ছেন সে বিষয়ে কোনো তথ্য জানা যায়নি। সূত্র: মরক্কোওয়ার্ল্ডনিউজ

বিষয় : আন্তর্জাতিক এশিয়া