তিন তালাক সন্ত্রাসবাদের মতো অপরাধ, লোকসভায় বিল পাস

প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০১৯      

অনলাইন ডেস্ক

সন্ত্রাসবাদের মতো তিন তালাককেও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ধরে ভারতের নরেন্দ্র মোদী সরকার জানিয়েছে, সন্ত্রাসবাদী কাজে জড়িত থাকলে যেমন জেলে যেতে হয়, তেমনি তিন তালাক দিলেও জেলে যেতে হবে। বৃহস্পতিবার লোকসভায় সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী মুখতার আব্বাস নকভি তিন তালাক বিলের পক্ষে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, সন্ত্রাসবাদ যেমন অপরাধ, তিন তালাকও অপরাধ। অপরাধ করলে জেলে যেতেই হবে। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।

অবশ্য কংগ্রেস ও তৃণমূলের দাবি, সন্ত্রাসবাদ ও তিন তালাককে এক করে ভাবা যাবে না। সেই যুক্তি অবশ্য মানেনি সরকার। বিপুল সংখ্যাগরষ্ঠিতায় বৃহস্পতিবার তৃতীয়বারের জন্য তিন তালাক বিল পাশ হয়েছে লোকসভায়। কিন্তু রাজ্যসভায় এ নিয়ে আবারও আপত্তি জানাবেন বিরোধীরা।

তিন তালাককে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে সাব্যস্ত করে তিন বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলোর পাশাপাশি বিজেপির শরিক দল জেডিইউ’ও লোকসভা থেকে ওয়াকআউট করেছে। 

জেডিইউ সাংসদ রাজীব রঞ্জন বলেন, তিন তালাকের মতো অপরাধ ঠেকাতে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো দরকার। গৃহবধূদের ওপর নির্যাতন ও পণপ্রথার বিরুদ্ধে আইন করেও এসব ঠেকানো যায়নি। বরং এর অপব্যবহার হচ্ছে। একইভাবে তিন তালাক আইনেরও অপব্যবহার হবে। সরকারকে কটাক্ষ করে জেডিইউ’র এই সাংসদ বলেন, আমরা সরকারের আসল উদ্দেশ্য জানি। আপনারা জনমত পেয়েছেন। কাজ করুন। এসব না হয় আবার ভোটের আগে করবেন।

২০১৭ সালের ২২ অগস্ট তাৎক্ষণিক তিন তালাককে ‘অসাংবিধানিক’ বলে রায় দিয়েছিলেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। এরপর মোদী সরকার তিন তালাককে ফৌজদারি অপরাধ সাব্যস্ত করে এবং এজন্য তিন বছরের জেলের বিধান রেখে বিল আনে। কংগ্রেস ও তৃণমূলের অভিযোগ, মুসলিম পুরুষদের হীন হিসেবে প্রতিপন্ন করতে মোদী সরকার তাৎক্ষণিক তিন তালাককে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে সাব্যস্ত করে জেলের বিধান রেখেছে।