ভারতে তিন তালাক নিষিদ্ধের বিল রাজ্যসভায় পাস

প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০১৯     আপডেট: ৩০ জুলাই ২০১৯      

সমকাল ডেস্ক

তিন তালাক বন্ধের দাবিতে আন্দোলন- ফাইল ছবি

ভারতের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় বিল পাসের মধ্য দিয়ে দেশটিতে নিষিদ্ধ হলো 'তিন তালাক' প্রথা।

মঙ্গলবারের এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যে মুখে তিনবার তালাক উচ্চারণের মাধ্যমে বিয়ে বিচ্ছেদের এই প্রথা ভারতে চিরতরে বন্ধ হলো।

তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এ ঘটনাকে 'ঐতিহাসিক' বলে অভিহিত করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তবে শুরু থেকে বিলটির বিরোধিতা করে আসছিল অধিকাংশ রাজনৈতিক দল। মঙ্গলবারও তাদের সমর্থন না পেলেও রাজ্যসভায় বর্তমানে সংখ্যাগরিষ্ঠ বিজেপির একক প্রচেষ্টায় বিলটি পাস হয়েছে। খবর এনডিটিভি ও টাইমস অব ইন্ডিয়ার।

'মুসলমান নারীর বিবাহ অধিকার সুরক্ষা' নামের বিলটি গত সপ্তাহে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ লোকসভায় পাস হওয়ার পর মঙ্গলবার সেটি রাজ্যসভার অনুমোদন পেল। এর ফলে এখন থেকে কোনো মুসলমান পুরুষ তাৎক্ষণিক তার স্ত্রীর সামনে তিন তালাক উচ্চারণ করে বিয়ে বিচ্ছেদ ঘটালে তার কমপক্ষে তিন বছরের জেল হবে। রাজ্যসভায় বিলটির পক্ষে ৯৯ ও বিপক্ষে ৮৪ ভোট পড়ে।

মঙ্গরবার রাজ্যসভায় বিলটি উত্থাপন করলে শুরুতে তা বিরোধিতার মুখে পড়ে। রাজ্যসভার সিলেক্ট কমিটির কাছে বিলটি পাঠানোর প্রস্তাব ওঠে। সেটি ১০০/৮৪ ভোটে প্রত্যাখ্যাত হয়। এর পর সেটি চূড়ান্ত করার জন্য রাজ্যসভায় ভোট আহ্বান করা হয়। তখন ওয়াকআউট করে জেডিইউ ও এআইএডিএমকে। তবে বিজেডি সমর্থন করে।

রাজ্যসভায় মোট আসন ২৪২টি। সবাই উপস্থিত থাকলে কোনো বিল পাস করতে ১২১টি ভোটের দরকার পড়ে। তবে দুই দল ওয়াকআউট করায় এবং বেশ কয়েকজন সাংসদ অনুপস্থিত থাকায় ৯০ ভোটেই তিল তালাক নিষিদ্ধের বিল পাস হয়েছে। এখন রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পেলে এটি আইন হিসেবে কার্যকর হবে।

বিল পাস হওয়ার আগে এ নিয়ে রাজ্যসভায় সাড়ে চার ঘণ্টা বিতর্ক হয়। এ সময় এক প্রশ্নের জবাবে ভারতের আইনমন্ত্রী রবি শংকর প্রসাদ বলেন, এ বিলে যে আইনের কথা বলা হয়েছে, তাতে হিন্দুদের মতো মুসলমান পুরুষরাও বহুবিয়েতে নিরুৎসাহিত হবে। তবে আইন অমান্য করলে কমপক্ষে তিন বছর সাজা হবে। তার এ ব্যক্তব্যের বিরোধিতা করেন বিরোধীদলীয় নেতা গোলাম নবী আজাদ।

জবাবে মন্ত্রী বলেন, তাদের এ অবস্থানের কারণেই ১৯৮৪ সালে ৪০০ আসনের বেশি পাওয়া দল হয়েও এখন জয়ের মতো আসন পায় না। তিনি আরও বলেন, হোয়াটসঅ্যাপের মতো কোনো কিছুতে কেউ তিন তালাক বলেই তার স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করুক- এমন অবস্থা আর দেখতে চাই না। মুসলমান সম্প্রদায়ই পরিবর্তন চায়। তাহলে কেন একটি গণতান্ত্রিক দেশে তা বাস্তবায়ন হবে না? তবে বিরোধী দলগুলো বলছে, এ আইনের অপব্যবহার হতে পারে।