ধর্ষণের শিকার এক মায়ের হতাশা

প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯     আপডেট: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯      

অনলাইন ডেস্ক

সারাহ মিডগ্লে

আঠারো মাস ধরে নিজের সাবেক প্রেমিকের দ্বারা ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার ফটোসাংবাদিক সারাহ মিডগ্লে। ৩৭ বছর বয়সী এই নারী তখন দুই সন্তানের জননী।

এক দশক আগে ধর্ষণের শিকার হওয়ার যে মানসিক আঘাত, সেটি এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেননি তিনি। নিজের ভয়ানক অভিজ্ঞতার জেরে দুই মেয়েকে নিয়ে তিনি সবসময় হতাশাগ্রস্ত থাকেন।

বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে সারাহ মিডগ্লে নিজের সাবেক প্রেমিকের দ্বারা ধর্ষণের ভয়ংকর অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি বলেন, 'যদি তাকে ছেড়ে যাই, তাহলে সে নিয়মিত আমার কন্যাদের ধর্ষণ ও আমার সামনেই তাদের খুন করবে বলে হুমকি দিতো। এমনকি একবার আমাকে ইলেকট্রিক শক পর্যন্ত দিয়েছিলো সে। আমি পরিবার ও বন্ধুদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলাম। আমি বিশ্বাস করতে শুরু করেছিলাম যে সে আমার সন্তানদেরও ক্ষতি করবে।'

সাবেক প্রেমিককে গাড়িতে করে এক স্থানে পৌছে দিতে যাওয়ার ঘটনা প্রসঙ্গে সারাহ বলেন, 'গাড়ীতে করে দিয়ে আসার সময়ই খেয়াল করলাম যে সে চুপ হয়ে আছে। যখন খামারে পৌঁছলাম সে দৌড়ে আমার দিকে এসে দরজা খুলে চুল ধরে টেনে-হিঁচড়ে বের করার চেষ্টা করে। আমি গাড়িতে পড়ে গেলে সে আমার মাথায় লাথি মারে। যখন জ্ঞান ফিরলো তখন খামারের বাইরে একটি কোয়ার্টারে এবং আমার ওপরে তাকে দেখতে পেলাম। তার এক বন্ধুও তার সাথে যোগ দিলো। আমি আবারো জ্ঞান হারালাম। জ্ঞান ফেরার পর দেখি তারা চলে গেছে।'

তিনি বলেন, 'আমি মানুষকে ভয় পেতে শুরু করলাম। চেষ্টা করলাম যাতে কেউ না বোঝে। আমি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলাম এই ভেবে যে- আমি যে ঘটনার শিকার হয়েছিলাম, তেমনটি যদি আমার দুই মেয়ের ক্ষেত্রেও হয়।'

এ ঘটনার পর সারাহ'র সাবেক প্রেমিক গ্রেফতার হয় এবং তার আট বছরের জেলও হয়। এরপর সে সাত বছর জেল খাটার পর প্রস্টেট ও ব্লাডার ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ২০১৭ সালে মারা যায়। তবে সারাহ এখনও সন্তানদের নিরাপত্তার বিষয়ে চিন্তিত। ব্যক্তিগতভাবে তিনি মনে করেন- নারী ও শিশুদের সুরক্ষায় খুব বেশি কোনো ব্যবস্থা নেই।