পানির নিচে প্রেমিকাকে বিয়ের প্রস্তাব দিতে গিয়ে মৃত্যু!

প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯     আপডেট: ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯      

অনলাইন ডেস্ক

অভিনব উপায়ে প্রেমিকাকে খুশী করতে প্রেমিকের কতরকম চেষ্টাই না থাকে। স্টিভ ওয়েবার নামের এক আমেরিকান প্রেমিকও চেয়েছিলেন ভিন্নরকম কিছু করতে। প্রেমিকাকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার মুহূর্তটা স্মরণীয় করে রাখতে তিনি নেমেছিলেন পানিতে। ভেবেছিলেন পানির নিচ থেকেই প্রেয়সীকে বিয়ের প্রস্তাব দেবেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে পানিতে ডুবেই তার মৃত্যু হয়েছে।  

সম্প্রতি মর্মান্তিক এ ঘটনাটি ঘটেছে তানজানিয়ার অ্যান্টোয়াইন পেম্বা দ্বীপে। 

তানজানিয়ায় ছুটি কাটাতে গিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের অধিবাসী স্টিভ ওয়েবার ও প্রেমিকা কেনেশা অ্যান্টোয়াইন। তারা দ্বীপের মান্টা রিসোর্টের একটি অর্ধনিমজ্জিত কেবিনে অবস্থান করছিলেন।

ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, ওয়েবার পানির নিচে থেকে তার প্রেমিকাকে বিয়ের প্রস্তাব দিচ্ছেন। তখন তার হাতে লেখা একটি প্রস্তাব ছিল যেখানে তিনি তার প্রেমিকাকে লিখেছিলেন, ‘ তুমি কি আমার স্ত্রী হতে রাজী আছো?’ । যখন তিনি কেনেশাকে প্রস্তাব দিচ্ছিলেন তখন কেবিনের ভেতর থেকে ঘটনার ভিডিও করছিলেন।

ভিডিওতে আরও দেখা যায়, ওয়েবার সমুদ্রে ডাইভ করার আগে একটা আংটির বাক্স খুলে দেখান। এরপরই সাঁতরে দূরে চলে যেতে দেখা যায় তাকে। তারপর তিনি আর পানি থেকে উঠে আসেননি।

ফেসবুক পোস্টে ওয়েবারের মৃত্যুর ঘটনা নিশ্চিত করে তার প্রেমিকা কেনেশা লেখেন ' ওই গভীর পানি থেকে ওয়েবারে আর উঠে আসেনি।'

মান্টা রিসোর্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আন্ডারওয়াটার রুম থেকে একা ডাইভ করার সময় দূর্ভাগ্যজনকভাবে ডুবে গেছেন ওয়েবার। তারা আরও জানায়, ওইদিন সাঁতারের পোশাক পড়ে হাতে একটি চিরকুট নিয়ে পানির নীচে নেমেছিলেন ওয়েবার।

রিসোর্টের প্রধান নির্বাহী মি. সাওস বিবিসিকে বলেন, পানিতে 'কিছু একটা সমস্যা হয়েছে' বলে তার কর্মীরা তাকে জানান। কিন্তু তারা যখন ঘটনাস্থলে পৌঁছান তখন আর কিছুই করার ছিল না।  

এরই মধ্যে স্টিভ ওয়েবারের মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত নেমেছে পুলিশ। 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসে ওয়েবার এবং কেনেশা অ্যান্টোয়াইন সমুদ্র তীরের ওই রিসোর্টটির আন্ডারওয়াটার একটি রুম চার রাতের জন্য ভাড়া করেছিলেন। পানির ১০ মিটার নীচে অবস্থিত কেবিনটির ভাড়া ছিল প্রতি রাতে ১৭০০ ডলার। 

নিজের কষ্টকর অনুভূতি নিয়ে ফেসবুক পোস্টে কেনেশা লিখেছেন, ‘ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে যেটি আমাদের জীবনের শ্রেষ্ঠ দিন হওয়ার কথা ছিল, সেটি সবচেয়ে দু:খজনক দিনে পরিণত হলো।’