নয় বছর ধরে কারো সাথে মিশতেন না তারা

প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০১৯     আপডেট: ১৭ অক্টোবর ২০১৯   

অনলাইন ডেস্ক

এই খামারবাড়িটিতেই পরিবারটি বাস করতো-সিএনএন

এই খামারবাড়িটিতেই পরিবারটি বাস করতো-সিএনএন

নেদারল্যান্ডে একটি খামারবাড়ি থেকে এক পরিবারের ছয় সদস্যকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবারটি প্রায় নয় বছর ধরে মানুষের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে সেখানে বাস করছিল বলে জানা গেছে।    

খামারবাড়িটি থেকে তাদের বাবাসহ পাঁচ সন্তানকে উদ্ধার করা হয়েছে। সন্তানদের বয়স ১৮ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে। 

ডাচ পুলিশ জানিয়েছে, দেশটির ড্রেনে প্রদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একটি ছোট গ্রাম রুইনারওল্ড থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়েছে।  

চলতি মাসের প্রথমদিকে পরিবারটির বড় ছেলে পুলিশে খবর দিলে তাদের উদ্ধার করা হয়। খবর সিএনএনের।

গ্রামটিতে মাত্র কয়েক হাজার বাসিন্দার বাস। বাসিন্দাদের কেউই পরিবারটি সম্পর্কে তেমন কিছুই জানতো না বলে জানিয়েছে।  

পাঁচ সন্তানের বাবা বলে পরিচয় দেওয়া ৫৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ব্যক্তিটি ২০১০ সালে খামারবাড়িটি কেনেন এবং তখন থেকেই সেখানে বাস করতে শুরু করেন। 

পরিবারের বড় ছেলেটি গ্রামটির একটি ক্যাফেতে গিয়ে ক্যাফেমালিকের কাছে সাহায্য চান। ক্যাফেটির মালিক ক্রিশ ওয়েসটারবেক বলেন, ছেলেটির মাথায় বড় বড় চুল, ময়লা কাপড় পরা ছিল। ক্যাফেতে এসে সে এক কোণায় বসেছিল। তাকে দেখে আমি এগিয়ে গেলে সে আমার কাছে সাহায্য চায়। পরে আমি পুলিশে খবর দিই। 

ছেলেটি ওয়েসটারবেককে জানিয়েছে, সে গত নয় বছর ধরে কোনো স্কুল বা সেলুনে যায়নি।

স্থানীয় পুলিশ জানায়, ছেলেটি তাদের কাছে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলে তারা খামারবাড়িটিতে যায়। বাড়িটির নিচতলার একটি ছোট্ট কক্ষ থেকে পরিবারের অন্য সদস্যদের উদ্ধার করা হয়।

পরিবারটির কোনো সদস্যই গত নয় বছরে বাইরের কারো সঙ্গে যোগাযোগ করেনি বলে জানিয়েছে পুলিশ। 

এক প্রতিবেশী বলেন, বাড়িটির গেটে সব সময় তালা লাগানো থাকতো। আমি একদিন বাড়িটিতে প্রবেশ করতে গেলে দেখতে পাই, সেখানে নানা জায়গায় ক্যামেরা লাগানো আছে। এরপর আমি আর ভেতরে যাইনি। 

প্রতিবেশীরা জানান, তারা কোনো বাচ্চাকে কখনও বাড়িটি থেকে বের হতে দেখেননি। কেবল এক ব্যক্তিকে মাঝে মাঝে গাড়ি নিয়ে বাইরে যেতে দেখতেন।

রুইনারওল্ডের মেয়র রগার ডি গ্রুট জানান, তিনি এর আগে এমন ঘটনা কখনও দেখেননি। বাচ্চাগুলোর মা সম্ভবত কয়েক বছর আগে মারা যান। এরপরই তারা এখানে চলে আসে। 

পুলিশের মুখপাত্র নাথালি স্কুবার্ট জানান, পরিবারটি কেন সবার থেকে আলাদা হয়ে থাকতো সে বিষয়ে এখনও জানা যায়নি। সরকারি নথিতে তাদের নামও অন্তর্ভুক্ত নেই। 

এ বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি।