বন্ধুরা হ্যারিকে বিয়ে করতে মানা করেছিল: মেগান

প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০১৯     আপডেট: ২১ অক্টোবর ২০১৯      

অনলাইন ডেস্ক

আফ্রিকা সফরের সময় ছেলের সঙ্গে প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মারকেল

ডাচেস অব সাসেক্স মেগান মারকেল জানিয়েছেন, বন্ধুরা তাকে ব্রিটিশ রাজপরিবারের পঞ্চম উত্তরসূরি প্রিন্স হ্যারিকে বিয়ে করার ব্যাপারে সতর্ক করেছিলেন। সার্বক্ষণিক মিডিয়া তদন্তের ব্যাপারে বন্ধুরা তাকে আগেই জানিয়েছিলেন। 

ব্রিটিশ টেলিভিশন চ্যানেল আইটিভি নির্মিত এক ডকুমেন্টারিতে মেগান একথা জানিয়েছেন। বিবিসি অনলাইন রোববার এক প্রতিবেদনে একথা জানিয়েছে।

মেগান জানান, রাজকীয় জীবনের সঙ্গে তাল মেলানো ‘কঠিন’ ছিল। 

তিনি বলেন, আমি যখন হ্যারির সঙ্গে প্রথম দেখা করি, তখন বন্ধুরা সত্যিই খুশি হয়েছিল। কারণ, আমি খুব খুশি ছিলাম। তবে আমার ব্রিটিশ বন্ধুরা বলেছিল, নিঃসন্দেহে তিনি অসাধারণ। তবে তাকে বিয়ে করাটা উচিত হবে না। কারণ, ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড তোমার জীবন ধ্বংস করে দেবে।

ব্রিটিশ রাজপরিবারের এই বধূ বলেন, প্রেগন্যান্সির সময় এবং নতুন মা হওয়ার পরের সময়টা আমার জন্য অনেক কঠিন ছিল। সংবাদপত্রের অতি আগ্রহের কারণে এই সময়টা পার করতে অনেক সংগ্রাম করতে হয়েছে।  

সাক্ষাৎকারে প্রিন্স হ্যারিকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তার মা প্রিন্সেস ডায়ানার মতো তার স্ত্রীও একই মানসিক চাপের সম্মুখীন হতে পারেন, এ ব্যাপারে তিনি উদ্বিগ্ন কি না। 

উত্তরে হ্যারি বলেন, আমি সব সময় পরিবারকে রক্ষা করব। সুরক্ষা দেওয়ার জন্য এখন আমার একটি পরিবার রয়েছে। মা যা যা করেছিলেন এবং তার সঙ্গে যা ঘটেছিল, তা প্রতিদিন আমার কাছে অসম্ভব গুরুত্বপূর্ণ। এটি আমার মন খারাপের কারণ নয়। আমি কেবল অতীতের পুনরাবৃত্তি চাই না।

ডায়ানা ১৯৯৭ সালে প্যারিসে এক গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা যান।

সম্প্রতি বেশ কিছু সংবাদপত্রে সাসেক্স এবং কেমব্রিজের ডিউক ও ডাচেসের মধ্যে সম্পর্কে ফাটলের খবর প্রকাশিত হয়েছে। 

এ ব্যাপারে প্রিন্স হ্যারি বলেন, প্রিন্স উইলিয়ামের সঙ্গে আমার ‘ভালো দিন’ এবং ‘খারাপ দিন’ আছে। 

তিনি বলেন, ‘আমরা ভাই আজীবন ভাই-ই থাকব। এই মুহূর্তে আমাদের পথ আলাদা হয়ে গেছে। তবে আমি সব সময় তার পাশে আছি। যে কোনো সংকটে সে আমাকে পাশে পাবে।

প্রিন্স তার মানসিক স্বাস্থ্য এবং জীবনে চলমান চাপগুলো সম্পর্কে বলেন, ভেবেছিলাম, আমি প্রথা ভেঙে বেরিয়ে এসেছি। কিন্তু হঠাৎ করেই ঘটনাগুলো আবার ফিরে এল। এবার এ বিষয়গুলো সামলাতে হবে।

তিনি বলেন, সারাক্ষণ সাহসী একটা মুখোশ পরে থাকতে হচ্ছে। তবে আমাকে এবং আমার স্ত্রীকে প্রতিনিয়ত এমন অনেক কিছুর মুখোমুখি হতে হয়, যা আমাদের আহত করে। 

ডাচেস মেগান ২০১৮ সালের মে মাসে উইন্ডসর ক্যাসলে প্রিন্স হ্যারিকে বিয়ে করেন। এ বছর তাদের ছেলে আর্চির জন্ম হয়। আফ্রিকা সফরটি ছিল প্রিন্স হ্যারি, মেগান এবং তাদের ছেলে আর্চির প্রথমবারের মতো রাজকীয় ভ্রমণ। 

কয়েক মাস ধরে মেগানকে ব্রিটিশ মাধ্যমে যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তাতে তিনি আতঙ্কিত। মেগানের যোগাযোগ ক্ষমতা দুর্দান্ত। তিনি বেশ বুঝেশুনে গুছিয়ে কথা বলতে জানেন। 

ট্যাবলয়েড পত্রিকার কভারেজ সম্পর্কে মেগান বলেন, ‘এটা যে সহজ হবে, তা কখনো ভাবিনি। তবে, ভেবেছিলাম ব্যাপারটা অন্তত ন্যায়সংগত হবে।’ 

মেগান গতকাল ‘দ্য মেইল’-এর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। বেআইনিভাবে তার ব্যক্তিগত চিঠি প্রকাশের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।