চুরি করা অন্তর্বাসে 'মিলেছে' বাগদাদির পরিচয়

প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০১৯      

অনলাইন ডেস্ক

আবু বকর আল-বাগদাদি

জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) নেতা আবু বকর আল-বাগদাদির মৃত্যুর আগে তার পরিচয় নিশ্চিত হতে বেশ কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে কুর্দি নেতৃত্বাধীন বাহিনী সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সকে (এসডিএফ)। ঘটাতে হয়েছে এই দুর্ধর্ষ জঙ্গিনেতার অন্তর্বাস চুরির মতো ঘটনাও।

এসডিএফের জ্যেষ্ঠ কমান্ডার পোলাত চানের বরাত দিয়ে মঙ্গলবার বিবিসির প্রতিবেদনে এতথ্য জানানো হয়।

তিনি জানিয়েছেন, সিরিয়ায় বাগদাদিকে হত্যার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনীর অভিযানের আগে তার অন্তর্বাস চুরি করে এসডিএফ। ওই অন্তর্বাসের সাহায্যে ডিএনএ পরীক্ষায় পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায় এই জঙ্গিনেতার।

পোলাত জানান, বাগদাদির অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার ক্ষেত্রেও বড় ধরনের ভূমিকা পালন করে তার সংগঠন। এছাড়া অভিযানেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তাদের।

এর আগে রোববার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, বিশেষ অভিযানের সময় কুকুরের তাড়া খেয়ে সুড়ঙ্গে আটকে গিয়ে আত্মঘাতী হন বাগদাদি। তার কুকুরের মতো মৃত্যু হয়েছে।

এ ব্যাপারে সিএনএন একটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানায়, বাগদাদির মরদেহ হয়তো সমুদ্রে নিক্ষেপ করা হয়েছে। এনবিসি নিউজকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা রবার্ট ও'ব্রায়েন বলেছেন, বাগদাদির লাশ নিয়ে তৈরি হওয়া সংশয়ের যথাযথ নিষ্পত্তি করা হবে।

২০১১ সালে পাকিস্তানে অভিযান চালিয়ে আল কায়দা নেতা ওসামা বিন লাদেনকে হত্যার পর তার লাশ সাগরে নিক্ষেপ করা হয় বলে জানিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। বাগদাদির পরিণতিও কি একই রকমের হবে? এর জবাবে রবার্ট ও'ব্রায়েন বলেন, 'এক্ষেত্রেও আমি এটিই আশা করি।'

বাগদাদি-বধ নিয়ে ট্রাম্প দাবি করেন, শনিবার রাতে সিরিয়ার ইদলিবে নিখুঁত অভিযান চালানো হয়েছে। সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনীর রাত্রিকালীন ওই অভিযান ছিল বিপজ্জনক ও দুঃসাহসিক।

তিনি আরও বলেন, 'আইএস নেতা সারাপথ কাঁদতে কাঁদতে শেষ পর্যন্ত একমুখ বন্ধ একটি সুড়ঙ্গে ঢুকে মারা গেল। আত্মঘাতী বেল্ট পরে সে নিজেকে ও তার তিন শিশুকে হত্যা করল। কুকুর ও কাপুরুষের মতো মারা গেল। এখন পৃথিবী তুলনামূলক বেশি নিরাপদ।'

প্রসঙ্গত, এর আগেও কয়েকবার বাগদাদির নিহত হওয়ার খবর দেওয়া হয়েছিল। রাশিয়া, সিরিয়া, ইরাক ও আন্তর্জাতিক সংস্থা, এমনকি আইএসের নিউজ সাইটও তার মৃত্যুর খবর দিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প দাবি করলেন, তারাই বাগদাদিকে মেরেছেন।