দুর্নীতি দমন শিখেছি জিনপিংয়ের কাছ থেকে: ইমরান খান

প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০১৯      

অনলাইন ডেস্ক

শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ইমরান খান। ছবি: সংগৃহীত

দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর মনোভাবের কথা বলেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। তার বিশ্বাস, পাকিস্তানের দুর্নীতিপরায়ণ কর্মকর্তাদের মধ্যে ৫০০ জনকে কারাগারে ঢোকালে দুর্নীতির প্রবণতা কমে যাবে। এ ব্যাপারে তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের উদাহরণ তুলে ধরেন।

জিনপিং গত ৫ বছরে দেশটির মন্ত্রিপর্যায়ের ৫০০ কর্মকর্তাকে দুর্নীতির দায়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী জিনপিংয়ের এই কাজকে প্রশংসনীয় পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেন। 

মঙ্গলবার বেইজিংয়ে চায়না কাউন্সিল ফর প্রমোশন অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড নামের একটি সংস্থার অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। খবর এনডিটিভি ও ডন অনলাইনের।

ইমরান খান বলেন, দুর্নীতি দমনে কীভাবে নেতৃত্ব দিতে হয়, চীনের প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে তিনি তা শিখেছেন। আর সে উদাহরণ তিনি নিজের দেশেও প্রয়োগ করার কথা গুরুত্ব সহকারে চিন্তা-ভাবনা করছেন। তবে তিনি এ-ও স্বীকার করেন যে, পাকিস্তানে চীনের পদ্ধতি অনুসরণ করাটা অত্যন্ত কষ্টকর হবে। ইমরান খান বলেন, একটি দেশের অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি চরমসীমা লঙ্ঘন করলে সে দেশে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করাটা বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দেখা দেয়।

মঙ্গলবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী দু'দিনের সফরে বেইজিং পৌঁছেন। সফরকালে তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংসহ শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে আঞ্চলিক ও দ্বিপক্ষীয় বিষয়াদি নিয়ে আলোচনায় মিলিত হবেন। গত বছরের আগস্ট মাসে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর চীনে তার এটা তৃতীয় সফর।

ইমরান খান বলেন, চীনের কাছ থেকে তার দেশ দারিদ্র্য দূর করার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় কলাকৌশলও শিখতে পারে। চীন গত ত্রিশ বছরে দারিদ্র্য দূরীকরণে যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে, তা বিশ্বের যে কোনো দেশের জন্য শিক্ষণীয় হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। ক্ষমতায় আসার পর পাকিস্তানে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার জন্য নিয়মকানুন যথাসম্ভব সহজ করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী এমন এক সময় চীন সফর করছেন, যখন ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল নিয়ে পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে তীব্র মনকষাকষি চলছে। দেশ দুটো পরস্পরকে পারমাণবিক বোমা ছুড়ে নিশ্চিহ্ন করার হুমকিও দিচ্ছে। আর চীন এই ইস্যুতে পাকিস্তানের প্রতি নিজেদের সহানুভূতিসম্পন্ন মনোভাব দেখাচ্ছে।

এদিকে কাশ্মীর বিষয়ে বৈঠক করেছেন পাকিস্তানের চিফ অব আর্মি স্টাফ জেনারেল কামার বাভেদ বাজওয়া ও চীনের সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান শু কুইলিয়াং।