ঘূর্ণিঝড় 'বুলবুল': পশ্চিমবঙ্গে নিহত ৬, ক্ষতিগ্রস্ত ২৯ হাজার ঘরবাড়ি

প্রকাশ: ১০ নভেম্বর ২০১৯     আপডেট: ১০ নভেম্বর ২০১৯   

অনলাইন ডেস্ক

ঘূর্ণিঝড় 'বুলবুল'-এর তাণ্ডবে পশ্চিমবঙ্গে ৬ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে রাজ্যের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী জাভেদ খান। রোববার বিকেলে এ তথ্য জানান তিনি। তবে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, এ দুর্যোগে পশ্চিমবঙ্গে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের সবাই ঘূর্ণিঝড়ে নিহত হয়েছে কিনা সেটা খতিয়ে দেখছে রাজ্য সরকার।

পশ্চিমবঙ্গে নয়টি জেলার জেলাশাসকদের পাঠানো প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, প্রায় তিন লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে। সব মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত সাড়ে ২৯ হাজারের মতো বাড়়ির পুরোপুরি বা আংশিক ক্ষতি হয়েছে। ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।

জাভেদ খান জানান, ৬ জনের মধ্যে চারজনের মৃত্যু হয়েছে উত্তর ২৪ পরগনায়, একজন করে দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুরে। তার দফতর সূত্রে খবর, গোটা রাজ্যে এক লাখ ৭৮ হাজার মানুষকে বিভিন্ন ত্রাণ শিবিরে রাখা হয়েছে। ৯টি জায়গায় ৪৭১ টি ত্রাণশিবির খোলা হয়েছে। তৈরি হয়েছে ৩৭৩টি কমিউনিটি রান্নাঘর।  

এছাড়া ২৬ হাজার বাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত এবং প্রায় তিন হাজার বাড়ি পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, ছয়টি এনডিআরএফ ও চারটি রাজ্য বিপর্যয় মোকাবেলা দল উদ্ধার কাজে মোতায়েন করা হয়েছে। আরও কাজ করছেন ১৫ হাজার সিভিক ভলান্টিয়ার।

ঝড়ের দাপটে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ৯৫০ টি মোবাইল টাওয়ার। যার ফলে ঝঞ্ঝা বিধ্বস্ত এলাকায় ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে টেলি যোগাযোগ ব্যবস্থা। একই রকমভাবে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর ও উত্তর ২৪ পরগনার সুন্দরবনের অন্তর্গত এলাকায় ঝড়ের দাপটে অনেক জায়গায় বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে ও তার ছিঁড়ে গিয়ে বিদ্যুৎ পরিষেবাও বিঘ্নিত হয়েছে।

সর্বত্রই জেলা প্রশাসন বিদ্যুৎ সংযোগ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। প্রাথমিক পর্যায়ে পাওয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, শনিবার রাতে ঝড়ের সময় নন্দীগ্রামের খোদামবাড়ি পঞ্চায়েত এলাকার ভেকুটিয়া গ্রামে ঘরের উপর গাছ ভেঙে মৃ্ত্যু হয়েছে সুজাতা দাস নামে এক নারীর। একইভাবে বসিরহাটের মধ্যপাড়ায় ঝড়ের সময় বাড়ির বাইরে একটি বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে প্রাণ হারিয়েছেন মহিদুল গাজি নামের এক ব্যক্তি। বসিরহাটেই গাছ চাপা প়ড়়ে রেবা কুণ্ডু নামে এক নারীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে।

দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, শনিবার ফ্রেজারগঞ্জে চারটি ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটেছে। নিঁখোজ ১০ মৎস্যজীবী। তাদের খোঁজে যৌথভাবে তল্লাশি চালাচ্ছে উপকূল রক্ষী বাহিনী এবং রাজ্যের কোস্টাল পুলিশ।