রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা

প্রকাশ: ১১ নভেম্বর ২০১৯     আপডেট: ১১ নভেম্বর ২০১৯      

 অনলাইন ডেস্ক

ফাইল ছবি

রোহিঙ্গাদের গণহত্যার অভিযোগ তুলে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। নেদারল্যান্ডসের দি হেগের দি ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসে (আইসিজে) সোমবার ওই মামলা করে ওআইসিভুক্ত দেশ গাম্বিয়া।

গাম্বিয়ার বিচারমন্ত্রী আবুবকর তামবাদউ এ তথ্য জানিয়েছেন বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

এক সংবাদ সম্মেলনে আবুবকর তামবাদউ বলেন, জেনোসাইড কনভেনশন অনুসারে আমরা একটি আবেদন দিলাম। আমাদের লক্ষ্য হল মিয়ানমারকে তাদের নিজেদের মানুষের ওপর নির্যাতনের জন্য বিচারের আওতায় আনা। আমাদের চোখের সামনে একটা গণহত্যা সংঘটিত হচ্ছে, আর আমরা কিছুই করছি না। এটা আমাদের প্রজন্মের জন্য লজ্জার।

গাম্বিয়া ও মিয়ানমার দু'দেশেই ১৯৪৮ সালের জেনোসাইড কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী দেশ। মূলত জেনোসাইড কনভেনশন লঙ্ঘনের অভিযোগে মামলাটি হয়েছে বলে ১০টি বেসরকারি সংস্থার এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে। যেসব বেসরকারি সংস্থা এ উদ্যোগকে সমর্থন করছে তাদের মধ্যে আছে নো পিস উইদাউট জাস্টিস, ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর কন্সটিটিউশনাল অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস, দি ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন ফর হিউম্যান রাইটস, গ্লোবাল জাস্টিস সেন্টারে ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের অ্যাসোসিয়েট ইন্টারন্যাশনাল জাস্টিস ডিরেক্টর পরম প্রীত সিংহ বলেছেন, গাম্বিয়ার পদক্ষেপ বিশ্বের সর্বোচ্চ আদালতে একটি আইনি প্রক্রিয়ার সূচনা করলো, যা প্রমাণ করতে পারে যে, রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমারের নিষ্ঠুরতা জেনোসাইড কনভেনশন লঙ্ঘন করেছে।

রোহিঙ্গা নিপীড়নের জন্য সমালোচনার মুখে থাকা মিয়ানমার এরমধ্য দিয়ে প্রথম আন্তর্জাতিক কোনো আদালতে বিচারের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে।

গার্ডিয়ান বলছে, গাম্বিয়া তাদের ৪৬ পৃষ্ঠার অভিযোগে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলমানদের নির্বিচারে হত্যা, ধর্ষণ ও তাদের আবাস ধ্বংসের অভিযোগ করেছে।

আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে প্রথম জেনোসাইড কনভেনশন লঙ্ঘনের অভিযোগে মামলা হয় সার্বিয়ার বিরুদ্ধে ১৯৯৩ সালে এবং তাতে প্রমাণ হয়েছিলো যে বসনিয়া হার্জেগোভিনিয়ায় গণহত্যা প্রতিরোধে ব্যর্থ হয়েছিলো সার্বিয়া।