চিকিৎসককে গণধর্ষণের পর পুড়িয়ে হত্যা: প্রতিবাদ-বিতর্কে উত্তাল ভারত

প্রকাশ: ০২ ডিসেম্বর ২০১৯     আপডেট: ০২ ডিসেম্বর ২০১৯      

অনলাইন ডেস্ক

ছবি: হিন্দুস্তান টাইমস

ভারতের হায়দরাবাদে ২৮ বছর বয়সী এক নারী চিকিৎসককে গণধর্ষণের পর পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে গোটা ভারত। এ নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনীতি।

ধর্ষণকারীর পরিচয় নিয়ে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে হায়দরাবাদের বিজেপি বিধায়ক রাজা সিংয়ের বিরুদ্ধে। 'ধর্ষণকারী নিশ্চয়ই মুসলিম হবেন'- সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন মন্তব্য করার পর সেখানকার মুসলিম সংগঠন এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। এদিকে, নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের রেশ পড়েছে সংসদেও।

সোমবার বিষয়টি নিয়ে মুখ খুললেন সমাজবাদী পার্টির সাংসদ ও অভিনেত্রী জয়া বচ্চন। সংসদে ক্ষুব্ধস্বরে তিনি বলেন, ধর্ষণকারীকে আমজনতার হাতে ছেড়ে দেওয়া উচিত ও তাদের গণপিটুনি দেওয়া উচিত। অন্যদিকে এক ধর্ষণকারীর মা বলেছেন, ছেলে দোষী হলে তাকেও পুড়িয়ে মারা উচিত। খবর এনডিটিভির।

পুলিশ জানায়, হায়দরাবাদে ওই নারী ভেটেরিনারি চিকিৎসককে গণধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের মধ্যে হিন্দু-মুসলিম উভয় ধর্মের লোকই রয়েছে। বিজেপি বিধায়ক আপত্তিমূলক কথার পর এ তথ্য জানায় পুলিশ।

এদিকে, ভারতের বিভিন্ন হিন্দুত্ববাদী সাইট বা টুইটার অ্যাকাউন্টে খোলাখুলিই প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, ধর্ষণের অভিযোগ যখন মুসলিমদের দিকে, তখন দেশের সেলিব্রেটিরা কেন নীরব?

গত বুধবার রাতে হায়দরাবাদ শহরের একটি টোল প্লাজার কাছে কয়েকজন ট্রাকচালক ও খালাসি মিলে ওই ভেটেরিনারি চিকিৎসককে গণধর্ষণ করে এবং পরে গলা টিপে তাকে হত্যা করে তার দেহটিও জ্বালিয়ে দেয়।

ঘটনাটি নিয়ে শাদনগর থানার সামনে মানুষ যখন দোষীদের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ দেখাচ্ছে, তখন শহরেরই বিজেপি বিধায়ক রাজা সিংয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তিনি এ ঘটনা থেকে সাম্প্রদায়িক ফায়দা লোটার চেষ্টা করছেন।

ওই ঘটনায় প্রথম অভিযুক্ত গ্রেপ্তার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজা সিং সোশ্যাল মিডিয়াতে একটি ভিডিও পোস্ট করে বলেন, আমার আশা ছিল, এত ঘৃণ্য কাজ ঠিক কোনো মুসলমান করে থাকবে। তার এই মন্তব্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে ফেটে পড়েন হায়দরাবাদের মুসলিম সমাজ।

এদিকে, এ ঘটনা তুলে ধরে জয়া বচ্চন দেশের নারী ও শিশুদের সুরক্ষার বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, জনগণ এ বিষয়ে সরকারের কাছ থেকে একটি উপযুক্ত এবং নির্দিষ্ট উত্তর জানতে চায়। জয়া বচ্চন সংসদে বক্তব্যে রাখার আগে এআইএডিএমকে সাংসদ বিজিলা সত্যনাথ এই গণধর্ষণের বিষয়ে বলতে গিয়ে রীতিমতো ভেঙে পড়েন।