'খোয়াবনামা' ইতিহাসের দায়বদ্ধ উপন্যাস। সাহিত্যের সঙ্গে ইতিহাসের যোগসূত্র রয়েছে। ইতিহাসকে পৃথকভাবে পড়া যাবে না। জন মানুষের ইতিহাস নিয়ে ভাবতে হবে।

বুধবার প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের 'খোয়াবনামা' উপন্যাসের ওপর অনুষ্ঠিত পাবলিক লেকচারে বক্তরা এসব কথা বলেন।

'আখতারুজ্জামান ইলিয়াস-এর খোয়াবনামা'য় তেভাগা ও দেশভাগ' শীর্ষক এই পাবলিক লেকচার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর মানববিদ্যা গবেষণা কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক প্রফেসর ড. মেসবাহ কামালের সভাপতিত্বে লেকচারে বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের মানববিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. শুভ রঞ্জন দাশগুপ্ত। নির্ধারিত আলোচক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. রতন লাল চক্রবর্তী।

অধ্যাপক শুভ রঞ্জন বলেন, 'খোয়াবনামা' ইতিহাসের দায়বদ্ধ উপন্যাস। এছাড়া ইতিহাস চর্চায় আখতারুজ্জামান ইলিয়াসকে জানা খুবই জরুরি। সাহিত্যের সঙ্গে ইতিহাসের যোগসূত্র রয়েছে। সমাজতন্ত্রের সঙ্গেও ইতিহাসের সম্পর্ক রয়েছে। সে সময়ে টাকায় আট মন চাল পাওয়া যেত, তবু কৃষকরা না খেয়ে থাকত। সমাজতন্ত্র বুঝতে হবে, সাহিত্যকেও অনুধাবন করতে হবে।

ড. রতন লাল চক্রবর্তী বলেন, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস ভ্রান্ত স্বাথনির্ভর পদক্ষেপের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছিলেন। তেভাগা হল বাংলার প্রথম কৃষক বিদ্রোহ। শ্রম অনুযায়ী কৃষকরা পারিশ্রমিক পেত না, যার ফলে কৃষকরা বৈষম্যের শিকার হত। তেভাগা আন্দোলনের ফলে জমিদারি প্রথা উচ্ছেদ হয়েছিল।

সভাপতির বক্তব্যে ড. মেসবাহ  কামাল বলেন, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস তার 'খোয়াবনামা'য় '৪৭ পরর্বতী ইতিহাসের বিবরণ খুব সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছেন। ইতিহাসে কৃষক অনুপস্থিত। তেভাগা আন্দোলনের সময় ৬০ লাখ কৃষক আন্দোলনে সম্পৃক্ত ছিল। তারা ব্রিটিশ সামাজ্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলেছিল। তখন কৃষকরা স্লোগানে বলেছিল– ব্রিটিশ সামাজ্য নিপাত যাক। নতুন প্রজন্মের উচিত কৃষককে জানা। ইতিহাসকে পৃথকভাবে পড়া যাবে না। জন মানুষের ইতিহাস নিয়ে ভাবতে হবে। 

জন ইতিহাস চর্চা কেন্দ্রের আয়োজনে লেকচারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।