বিশ্বভারতীতে ছুটির দিন পরিবর্তন নিয়ে বিতর্ক

প্রকাশ: ২৯ ডিসেম্বর ২০১৯   

অনলাইন ডেস্ক

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতি বিজড়িত পশ্চিমবঙ্গের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাপ্তাহিক ছুটি বুধ ও বৃহস্পতিবার ছুটির দিন নির্ধারণ করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেই। সম্প্রতি সাপ্তাহিক ছুটি বুধ ও বৃহস্পতিবারের পরিবর্তে শনি ও রোববার করার পরিকল্পনা করছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক কমিটি। এ নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নির্ধারণ করে দেওয়া ছুটি পরিবর্তন করা হলে কবিগুরুর ভাবধারাকে আঘাত দেওয়া হবে বলে মত একাংশের। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন ব্রাহ্ম ধর্মের অনুসারী। আর ব্রাহ্ম ধর্মের উপাসনার দিন হওয়ায় বুধবার এই প্রতিষ্ঠানের কাছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। তাই বুধবার ও তার পরের দিন বৃহস্পতিবার ছুটি থাকে বিশ্ববিদ্যালয়।

বিশ্বভারতীতে বুধবারই ছুটির দিন। সপ্তাহে পাঁচ দিন কর্মদিবস হওয়ায় বুধ ও বৃহস্পতিবার ছুটি থাকে৷ শুধু শিক্ষা নয়, সাধারণভাবে সরকারি ও বেসরকারি যে কোনো ধরনের প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে রোববার অথবা শনি ও রবি, এই দুদিন। বিশ্বভারতী সূত্রের খবর, কর্তৃপক্ষ চাইছেন অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শনি ও রোববার ছুটি ঘোষণা করতে। অবশ্য এখনও এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি কর্তৃপক্ষ।

এতে একাধিক সুবিধা রয়েছে বলে বিশ্বভারতীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাংশের মত। প্রথমত, সপ্তাহে চার দিন বিশ্বভারতীর সঙ্গে অন্য প্রতিষ্ঠানের যোগাযোগের কোনো অবকাশ থাকে না। সেই বাধা দূর হবে। দ্বিতীয়ত, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা হয়ে থাকে সপ্তাহান্তে বা রোবাবার। বিশ্বভারতীর পড়ুয়ারা সেই পরীক্ষায় অংশ নিতে চাইলে ক্লাস কামাই ছাড়া পথ থাকে না তাদের। তৃতীয়ত, শনি ও রোববার ছুটি হলে পারিবারিক জীবনেও অন্যান্য প্রয়োজন মেটাতে সুবিধা হবে।

এসব যুক্তিই অবশ্য খারিজ করে দিচ্ছেন অন্য পক্ষ। তাদের মতে, এগুলো পরম্পরা ভাঙার মতো জোরালো যুক্তি নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সুপ্রিয় ঠাকুরের বক্তব্য, বুধবার ব্রাহ্মধর্মে প্রার্থনার দিন। ওই দিন মন্দিরে প্রার্থনা হয়, তাই বুধবার ছুটি থাকে। কিন্তু, তার থেকে গুরুত্বপূর্ণ, এই ছুটির দিনটি রবীন্দ্রনাথ ঠিক করেছিলেন। সেটা বদলে দেওয়া একেবারেই উচিত নয়। সূত্র: ডয়েচে ভেলে।