ঢাকা শনিবার, ১৮ মে ২০২৪

বিক্রম, স্মাইল প্লিজ...

বিক্রম, স্মাইল প্লিজ...

বুধবার সকালে রোভার প্রজ্ঞানের তোলা ল্যান্ডার বিক্রমের ছবি - টুইটার

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৩ | ০২:১৩ | আপডেট: ৩১ আগস্ট ২০২৩ | ০২:১৩

পৃথিবীর প্রথম দেশ হিসেবে চাঁদের অন্ধকারাচ্ছন্ন দক্ষিণ মেরুতে মহাকাশযান চন্দ্রযান-৩ পাঠিয়েছে ভারত। দেশটির মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো নির্মিত এই মহাকাশযান থেকে ল্যান্ডার বিক্রমের সাহায্যে চাঁদের মাটিতে নেমে এখন নানা রকম গবেষণা চালাচ্ছে রোভার প্রজ্ঞান। রোবট যানটি প্রতিনিয়ত বিক্রমের সাহায্যে চন্দ্রপৃষ্ঠের নানা রকম ছবি ও গবেষণা তথ্য পাঠিয়ে চলেছে পৃথিবীতে। সেসব ছবি ও তথ্য ইন্টারনেটে ভাগাভাগি করে ইসরো প্রতিনিয়ত বিজ্ঞান মহলকে চমকিত করে যাচ্ছে। ২৩ আগস্ট সফলভাবে চাঁদের বুকে অবতরণের পর থেকে ল্যান্ডার বিক্রম এতদিন প্রজ্ঞান রোভারের বিভিন্ন ছবি পাঠিয়ে যাচ্ছিল।

এবার প্রজ্ঞান ক্যামেরাবন্দি করেছে চাঁদের ঊষরপৃষ্ঠে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকা ল্যান্ডার বিক্রমের ছবি। ইসরো সে ছবি নিজেদের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে শেয়ার করে এর ক্যাপশনে লিখেছে, ‘‌স্মাইল প্লিজ।’ যেন প্রজ্ঞান তার বহনকারী বিক্রমকে বলছে, একটু হাসো তো!

পৃথিবীর সময় অনুযায়ী বুধবার সকাল ৭টা ৩৫ মিনিটে প্রজ্ঞানের তোলা এই ছবিকে চন্দ্রযান অভিযানের সেরা ছবি হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। ইসরো টুইটে বলেছে, বুধবার সকালে বিক্রমের একটি ছবি তুলেছে প্রজ্ঞান। একে ‘অভিযানের সেরা ছবি’ আখ্যা দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। ছবিটি উঠেছে রোভারের নেভিগেশন ক্যামেরায়।

ইসরো জানিয়েছে, এই নেভিগেশন ক্যামেরাটি বিশেষভাবে চন্দ্রযান-৩ এর জন্য তৈরি করা হয়েছে ইলেকট্রো-অপটিকস সিস্টেমের গবেষণাগারে। ছবিতে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, চন্দ্রপৃষ্ঠে ভারতের গর্বের প্রতীক বিক্রমকে কেমন দেখতে লাগছে।

ইসরো আরও জানিয়েছে, চাঁদের মাটি থেকে প্রজ্ঞান এখন পর্যন্ত এক টেরাবাইটের বেশি তথ্য পাঠিয়েছে। এর মধ্যে চন্দ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রার ওঠানামা-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বহু তথ্য সামনে এসেছে। এ ছাড়া প্রজ্ঞানের সঙ্গে সংযুক্ত লেজার ইন্ডিউসড ব্রেকডাউন স্পেকট্রোস্কোপ চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে সালফার, অ্যালুমিনিয়াম, ক্যালসিয়াম, লোহা (ফেরাস), ক্রোমিয়াম, টাইটানিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, সিলিকনের উপস্থিতি নিশ্চিত করেছে। এর চেয়েও বড় খবর হলো, চন্দ্রপৃষ্ঠে অক্সিজেনের উপস্থিতি ধরা পড়েছে। এবার প্রজ্ঞান চাঁদের বুকে হাইড্রোজেনের উপস্থিতি আছে কিনা তা খোঁজ করছে।

গত সোমবার ইসরোর বিজ্ঞানী বিএইচ দারুকেশা বলেন, আমরা আশা করেছিলাম, চাঁদের দক্ষিণ মেরুপৃষ্ঠের তাপমাত্রা অন্তত ২০ থেকে ৩০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড হতে পারে। কিন্তু যা দেখা গেল, তা অবাক করা। ৭০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড। আশ্চর্যজনকভাবে এটা আমাদের প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি। পৃথিবীতে এই ধরনের বৈচিত্র্য খুব কমই আছে। তাই চন্দ্রযান-৩ এর অনুসন্ধানগুলো খুবই আকর্ষণীয়।

ছয় চাকাবিশিষ্ট প্রজ্ঞান রোভারের গতি চন্দ্রপৃষ্ঠে সেকেন্ডে এক সেন্টিমিটার মাত্র। পৃথিবীর ১৪ দিন, অর্থাৎ এক চন্দ্রদিবস পর্যন্তই তার আয়ু। চাঁদে সূর্য ডুবে গেলে আর এই যন্ত্র কাজ করবে না। অর্থাৎ, আগামী ৫ বা ৬ সেপ্টেম্বর রোভারটি চাঁদে অকেজো হয়ে পড়তে পারে।

আরও পড়ুন

×