ঢাকা শনিবার, ১৮ মে ২০২৪

আমি আফ্রিকায় আছি, সবকিছু ঠিক আছে: নতুন ভিডিওতে প্রিগোজিন

আমি আফ্রিকায় আছি, সবকিছু ঠিক আছে: নতুন ভিডিওতে প্রিগোজিন

ভাগনার বাহিনীর প্রধান ইয়েভজেনি প্রিগোজিন। ছবি-ভিডিও থেকে সংগৃহীত

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৩ | ১৯:৩৭ | আপডেট: ৩১ আগস্ট ২০২৩ | ২২:৪২

বিমান দুর্ঘটনায় ইয়েভজেনি প্রিগোজিনের মৃত্যুর বিষয়টি রুশ কর্তৃপক্ষ নিশ্চিতের পর হঠাৎ প্রকাশ্যে এল একটি ভিডিও। যেখানে ভক্তদের উদ্দেশে প্রিগোজিনকে বলতে শোনা গেছে, ‘যারা আলোচনা করছেন আমি বেঁচে আছি কি নেই—তাঁদের জন্য। আমি আফ্রিকায় আছি। আসলে সবকিছু ঠিক আছে।’

ভিডিওটি দেখে প্রিগোজিনের ভক্তদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই ভাবছেন, প্রিগোজিন এখনো বেঁচে আছেন। 

বৃহস্পতিবার রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রিগোজিনকে দেখা যাওয়া নতুন ভিডিওটি ‘গ্রে জোন’ নামে একটি টেলিগ্রাম চ্যানেল থেকে পোস্ট করা হয়। এই চ্যানেলটি আবার প্রিগোজিনের নেতৃত্বাধীন ভাড়াটে ভাগনার বাহিনীর সঙ্গে সম্পৃক্ত। 

কোনো ভূমিকা ছাড়াই ওই চ্যানেলটি ভিডিওটি পোস্ট করেছে। যদিও একই চ্যানেলে এর আগের একটি পোস্টে প্রিগোজিনের সমাধির ছবি দেখানো হয় এবং ওই ছবিটির ক্যাপশনে লেখা হয়, ‘তিনি (প্রিগোজিন) একবার বলেছিলেন, মৃতদের কথার আওয়াজ জীবিতদের চেয়েও বেশি জোরে হয়।

নতুন ভিডিওটি কখন ধারণ করা হয়েছে সে বিষয়ে ‘গ্রে জোন’ চ্যানেলটি কিছু জানায়নি। আর ভিডিওটি যদি সত্যিও হয়, তারপরও এটা নিশ্চিত করে বলার উপায় নেই যে, তিনি বেঁচে আছেন। 

তবে ধারণা করা হচ্ছে, ভিডিওটি প্রিগোজিনের মৃত্যুর কয়েক দিন আগে ধারণ করা হয়েছে। সে সময় তিনি আফ্রিকাতেই ছিলেন। সে সময় খবরের বাইরে থাকায় তাঁর দীর্ঘ অনুপস্থিতি নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলছিলেন। আর এই ভিডিওতে তিনি সেই প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছিলেন। 

ভিডিওতে প্রিগোজিনকে একটি চলন্ত গাড়িতে দেখা যায়। তিনি যথারীতি ক্যামোফ্লেজ পোশাক পরে ছিলেন, মাথায় টুপি এবং ডান হাতে ঘড়ি ছিল।

এর আগে গত ২১ অগাস্ট একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছিল। নতুন ভিডিওতে তার চেহারা ও আশেপাশের সঙ্গে ওই ভিডিওর মিল রয়েছে। আগের ভিডিওতেও তিনি আফ্রিকায় অবস্থান করার কথা জানিয়েছিলেন।

নতুন ভিডিওতে তিনি যে ‘উইকেন্ড’ কথাটি বলেছেন সেটা বিবেচনায় নিলে ওই ভিডিওটি অবশ্যই ১৯ অথবা ২০ অগাস্ট ধারণ করা। অর্থাৎ তার তিন অথবা চারদিন পর বিমান বিধ্বস্ত হয়ে তিনি নিহত হন।

গত ২৩ অগাস্ট মস্কো থেকে সেন্ট পিটার্সবার্গ যাওয়ার পথে প্রিগোজিনকে বহন করা বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। এ সময় তার সঙ্গে তার ডান হাত বলে পরিচিত তার প্রধান সহচর দিমিত্রি উৎকিন এবং তার শীর্ষ সহযোগী ভ্যালেরি চেকালভ এবং তার চারজন দেহরক্ষী ছিলেন। দুর্ঘটনায় ৩ জন ক্রুসহ সব যাত্রীর মৃত্যু হয়।

প্রিগোজিনকে বহন করা বিমানটি ঠিক কী কারণে বিধ্বস্ত হয়েছে তা এখনও জানা যায়নি।

উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হওয়ার ঠিক দুই মাস আগে ওয়াগনার বাহিনী রাশিয়ার প্রতিরক্ষা নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিল। যে বিদ্রোহের আয়ু মাত্র ২৪ ঘণ্টার মত হলেও সেটি রাশিয়ায় প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের শাসনের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিল। নিজের ঘনিষ্ঠজনের কাছ থেকে এ আচরণ স্বাভাবিকভাবেই দারুণ অপমানের ছিল পুতিনের জন্য।

পুতিন বিদ্রোহের ওই ঘটনাকে ‘বিশ্বাসঘাতকতা বলে বর্ণনা করে ওয়াগনার বাহিনীকে দেশত্যাগের নির্দেশ দিয়েছিলেন। পশ্চিমা অনেক সংবাদমাধ্যম এবং রাজনীতিবিদদের অনেকেই সরাসরি বা পরক্ষোভাবে বলেছেন, পুতিনের নির্দেশে রাশিয়ার সেনাবাহিনীই গুলি করে বিমানটি ভূপাতিত করে।

আরও পড়ুন

×