চীনের উহান অঞ্চলে প্রথম শনাক্ত হওয়া করোনা ভাইরাস দ্রুত বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে বিশ্বজুড়ে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া শুরু হয়েছে। কারণ, নিউমোনিয়া সদৃশ এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চীনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ছয়জনে।

সরকারি হিসাবে দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৩০০। মঙ্গলবার দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

তবে বিভিন্ন পর্যবেক্ষক সংস্থা বলছে, আক্রান্তের সংখ্যা দুই হাজারের বেশি। স্বাস্থ্য খাতের কর্মকর্তারা যেন ভাইরাস সংক্রান্ত কোনো তথ্য গোপন না করেন, সে ব্যাপারে কড়া নির্দেশনা দিয়েছেন চীনের শীর্ষ রাজনীতিকরা। খবর বিবিসি ও রয়টার্সের।

বিশ্ব সাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বুধবার বিশ্বব্যাপী জরুরি অবস্থা জারি করতে যাচ্ছে। সোয়াইন ফ্লু ও ইবোলার সময় এমন পদক্ষেপ নিয়েছিল সংস্থাটি। এ ধরনের সতর্কতা জারির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে জরুরি সমন্বয়মূলক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। গত কয়েকদিনে ভাইরাসটিতে সংক্রমণের সংখ্যা বাড়তে থাকায় এশিয়ার শেয়ারবাজারে ব্যাপক অস্থিরতার সৃষ্টি হয়েছে।

আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে কিংবা হাঁচি-কাশির মাধ্যমে সুস্থ্য ব্যক্তির শরীরেও করোনা ভাইরাস সংক্রমিত হতে পারে। সোমবার চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন এ কথা জানিয়েছে। গুয়াংডং প্রদেশে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এসে দুজন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। পৃথক বিবৃতিতে উহান পৌর স্বাস্থ্য কমিশন জানিয়েছে, এ ভাইরাসে ১৫ স্বাস্থ্য সেবাকর্মী আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

বেইজিং ও সাংহাইয়ের মতো চীনের বড় শহরগুলোতেও করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। তবে হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহানে ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়েছে সবচেয়ে বেশি। গত বছর ডিসেম্বরে উহানে প্রথম নতুন ধরনের করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। ধারণা করা হচ্ছে সেখানকার সামুদ্রিক মাছ ও পশুর বাজার থেকে এ ভাইরাস ছড়িয়েছে।

চীনের বাইরে অন্তত তিনটি দেশে করোনা ভাইরাসে অক্রান্ত রোগির সন্ধান পাওয়া গেছে। থাইল্যান্ডে দুজন, জাপানে একজন ও দক্ষিণ কোরিয়ায় একজন আক্রান্ত এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এ ছাড়া চীনের স্বায়ত্ত্বশাসিত অঞ্চল তাইওয়ানে একজন আক্রান্ত হয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে এক ব্যক্তিকে আলাদা রেখে পরীক্ষা করা হচ্ছে। ওই ব্যক্তি সম্প্রতি উহানে ভ্রমণে গিয়েছিলেন। চীনা পর্যটকদের অন্যতম গন্তব্য অস্ট্রেলিয়া। গত বছর প্রায় দশ লাখ চীনা পর্যটক অস্ট্রেলিয়া ভ্রমণ করেছে। ভাইরাস ঠেকাতে বিশেষ সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে দেশটি। অস্ট্রেলিয়ার মতোই বাংলাদেশ, সিঙ্গাপুর, জাপানসহ বিভিন্ন দেশ চীন থেকে আসা যাত্রীদের পরীক্ষা করতে বিমানবন্দরগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে। গত সপ্তাহে একইরকম নির্দেশনা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

চীনা নববর্ষ উপলক্ষ্যে বহু মানুষ বড় বড় শহরগুলো থেকে নিজ নিজ এলাকায় ফিরতে শুরু করেছেন। বিপুল সংখ্যক মানুষকে চীনা কর্তৃপক্ষ কীভাবে নজরদারিতে রাখবে তা নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, বিপুল সংখ্যক মানুষের স্থানান্তরে করোনা ভাইরাস আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে। তখন ভাইরাসটি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়বে।