আমেরিকায় বার্থ ট্যুরিজম থামাবেন ট্রাম্প

প্রকাশ: ২৫ জানুয়ারি ২০২০   

নিউইয়র্ক প্রতিনিধি

বার্থ ট্যুরিজম বা সন্তান ভূমিষ্টের পর্যটন থামানোর পরিকল্পনা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চলতি সপ্তাহেই এ ব্যাপারে একটি নতুন নিয়ম জারি হতে পারে।

বার্থ ট্যুরিস্ট বলতে এমন ভ্রমণকারীকে বোঝানো হয়, যারা সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য বিদেশ ভ্রমণ করে থাকেন। উদ্দেশ্য, বিদেশের মাটিতে জন্মগ্রহণের মাধ্যমে তাদের সন্তানরা যেন সংশ্লিষ্ট দেশের নাগরিকত্ব পেতে পারে।

আমেরিকার সংবিধানের ফোর্টিন এমেনমেন্ডে আমেরিকায় জন্মগ্রহণকারীদের নাগরিকত্ব অর্জনের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। তবে ট্রাম্প বরাবরই বার্থ ট্যুরিজমের বিরোধী। 

নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে শিগগিরই বার্থ ট্যুরিজম সংক্রান্ত নতুন নিয়ম চালুর ঘোষণা করবে ট্রাম্প প্রশাসন। ফলে আগামী সপ্তাহ থেকে  ভিসা দেওয়ার প্রক্রিয়া আরও কঠোর করতে যাচ্ছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি কর্তৃপক্ষ। 

বিষয়টি গণমাধ্যমকে অবহিত করেছেন স্টেট ডিপার্টমেন্টের একজন কর্মকর্তা। তিনি বলেন, এর উদ্দেশ্য হচ্ছে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডসহ বার্থ ট্যুরিজমের সঙ্গে জড়িত জাতীয় নিরাপত্তার সুরক্ষা এবং আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে ঝুঁকি মোকাবিলা করা।

তবে এটি এখনও পরিষ্কার নয় যে, ট্রাম্প প্রশাসন কীভাবে নতুন নীতিটি কার্যকর করার পরিকল্পনা করছে। তবে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, প্রেসিডেন্টের নির্বাহী আদেশের মাধ্যমেই এটি করা যেতে পারে এবং এর অনুমোদনের জন্য কংগ্রেসেও যাওয়ার প্রয়োজন নেই।

২০১৯ সালে এক নারীসহ ১৯ জনকে বার্থ ট্যুরিজম চালানোর দায়ে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। সংবাদমাধ্যম এপি বলছে, এই উদ্দেশে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি দেওয়া বেশিরভাগ ‘পর্যটক’ ছিল চীন, রাশিয়া ও নাইজেরিয়ার নাগরিক।

ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্স ডিপার্টমেন্টের সাবেক একজন কর্মকর্তা জন্মসূত্রে নাগরিকত্বকে অবৈধ অভিবাসনের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলীয় সীমান্তে আগত আশ্রয় আবেদনকারীদের সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য বার্থ ট্যুরিজমকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, অভিবাসীরা মনে করেন আমেরিকায় পাড়ি দিতে এটি তাদের জন্য সোনার টিকিট।

সন্তান জন্ম দিতে কতজন পর্যটক যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ করেন কর্মকর্তারা তার কোনও পরিসংখ্যান সরবরাহ করেননি। তবে অভিবাসন সংক্রান্ত বিধিনিষেধের জন্য কাজ করা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ইমিগ্রেশন স্টাডিজের ধারণা, বছরে এই সংখ্যা প্রায় ৩৩ হাজারের মতো হতে পারে।