প্রাকৃতিক পরিবেশের আদলে ভবন

প্রকাশ: ৩১ জানুয়ারি ২০২০       প্রিন্ট সংস্করণ

অনলাইন ডেস্ক

চিন্তাশীল প্রাণী হিসেবে মানুষ ইচ্ছা-অনিচ্ছায় সদা ভাবনায় মগ্ন থাকে। সুচিন্তন থেকে সৃষ্টির ও উদ্ভাবনের ধারণার উদ্রেক হয়। এভাবেই পৃথিবী সদা নতুনত্বের দিকে যাচ্ছে। ধীরে ধীরে পরিবর্তন আসছে মানুষের চিন্তা-চেতনা ও অভিরুচিতেও। এবার কানাডার একদল স্থপতির মাথায় এলো অদ্ভুত এক ভবনের আকৃতি। তারা প্রস্তাব করলেন বনের মধ্যেই একটি ৪৮ তলা বিল্ডিং তৈরি করা হবে, যা হবে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক পরিবেশের আদলে।

কানাডার কুইবেক ভিত্তিক ওই স্থপতিদের প্রস্তাবিত ভবনটি সত্যিই অদ্ভুত হবে। এতে যা থাকবে তা হবে প্রচলিত ইটপাথরের ভবন থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। সাধারণত এত বড় একটি ভবনের জন্য প্রচুর ইটপাথর লাগার কথা। কিন্তুা না, এটি হবে সম্পূর্ণ 'গ্রিনহাউস' ধরনের ভবন। কাঁচ ও ইটপাথরের সঙ্গে ভবনটিতে থাকবে মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশ।

ভবনটি একটি বনের মধ্যে নির্মাণ করা হবে। এতে সব আধুনিক সুবিধা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি থাকবে মানুষ ও প্রকৃতির এক মেলবন্ধনের সুযোগ। ভবনটিতে থাকবে প্রয়োজনীয় সবজি বাগান ও ফলমূলের গাছ। শুধু কি তরতাজা খাবারের ব্যবস্থা? থাকবে সুপেয় পানীয়ের ব্যবস্থাও। নিরাপদ ও সুপেয় পানীয়ের জন্য ভবনটিতে থাকবে বৃষ্টি ও তুষার ধরে রাখার সুব্যবস্থা, যা হবে নিরাপদ পানির গুরুত্বপূর্ণ উৎস।

বিলাসী ফ্ল্যাট মালিকদের জন্য রয়েছে হেলিকপ্টার হ্যাঙ্গারের সুবিধা। তারা হেলিকপ্টারে চড়ে প্রাকৃতিক পরিবেশ অবলোকন করতে পারবেন। এভাবে ভবনের ভেতর থেকেই প্রাকৃতিক প্রায় সব সুবিধা ভোগ করা যাবে অনায়াসেই। তবে এ অদ্ভুত ধারণা নিয়ে সমালোচনাও কম হচ্ছে না।

মু আর্কিটেকচারের এই প্রকল্পের নাম দেওয়া হয়েছে 'পিকুলিয়ারি', যা বিশেষতই পিকুলিয়ার তথা অদ্ভুত। সমালোচকরা বলছেন, ধারণাটি প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কাকে বাড়িয়ে দেবে। বনের মধ্যে এমন ভবন নির্মাণ করা হলে প্রাকৃতিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। হ্রাস পাবে গ্রামীণ পরিবেশ এবং নিধন হবে গাছপালাও। সূত্র: ট্রিহাগার ডটকম।