সেই দোকানটি কিনে নিলেন তারা

প্রকাশ: ০২ জানুয়ারি ২০২০     আপডেট: ০২ জানুয়ারি ২০২০   

অনলাইন ডেস্ক

১৯৯৭ সাল। ১৭ বছরের টগবগে তরুণ জর্ডান ওলসেন যুক্তরাষ্ট্রের উটাহ প্রদেশের কেইসভিলের সাবওয়ের একটি দোকান স্যান্ডউইচ তৈরির কাজ করতেন। 

কিছুদিনের মধ্যে সেখানে তার সহকর্মী হিসেবে যোগ দেন জেনিফার নামের এক মেয়ে। প্রথম দেখাতেই মেয়েটির প্রেমে পড়ে যান জর্ডান।

কাজের ফাঁকে ফাঁকে জর্ডান তাকাতেন জেনিফারের দিকে। জেনিফার স্যান্ডউইচ বানাতেন, জর্ডান মুগ্ধ চোখে তার দিকে তাকিয়ে থাকতেন। এভাবে এক মাস আকার-ইঙ্গিতেই তাদের ভালোবাসা বিনিময় চলে। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে হৃদ্যতার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। চার বছর পরে এ জুটি বসে বিয়ের পিঁড়িতে। 

এরপর কেটে গেছে বহু বছর। জর্ডান ও জেনিফারের ঘরে জন্ম নিয়েছে তিনটি কন্যা সন্তান। জর্ডান একটি গানের স্কুল চালাচ্ছিলেন। আর জেনিফার দীর্ঘদিন দাঁতের চিকিৎসকের সহকারী হিসেবে কাজ করার পর তিন মেয়ের দেখাশোনা করেই সময় কাটান। 

সম্প্রতি এ দম্পতি জানতে পারেন তাদের প্রথম দেখা হওয়ার সেই জায়গা অর্থাৎ সাবওয়ের সেই সান্ডউইচের দোকানটি বিক্রি করে দিতে চাইছেন এর মালিক। এ কথা শোনার পর ১৮ বছর আগের স্মৃতি বিজরিত সেই দোকানটি স্মরণীয় করে রাখতে তা কেনার সিদ্ধান্ত নেন ওই দম্পতি। এজন্য ছোট একটা ব্যবসায়িক ঋণ নেওয়ারও পরিকল্পনা করেন তারা। 

৩৯ বছর বয়সী জর্ডান বলেন, ‘ আমি জেনিফারকে বলেছি, তুমি ম্যানেজার হয়ে দোকানটি চালাতে পারো। তবে যখনই তোমার আমাকে দরকার হবে তখনই তুমি আমাকে পাশে পাবে।’ 

দোকানটি নিজেদের করতে পেরে খুশী ৪১ বছরের জেনিফারও। তিনি জানান, দোকানটি অনেক ক্রেতারই পছন্দের। আর তাদের প্রেমের গল্প শুনে অনেকেই আনন্দিত তাদের জন্য। 

জর্ডান বলেন, ‘ এখন চাইলেই যখন খুশি তখন খেতে যেতে পারবো আমাদের প্রিয় জায়গায়।’

মালিকানা পাওয়ার পর প্রিয় ওই দোকানে স্যান্ডউইচই বিক্রি করতে চান ওই দম্পতি। জর্ডান জানান, প্রথমবারের মতো শপে দেখা হওয়া স্ত্রী জেনিফারের দিকে এখনও মুগ্ধ হয়ে তাকান তিনি। সেই সঙ্গে নিজেকে ভাগ্যবানও মনে করেন।  সূত্র : ওয়াশিংটন পোস্ট