ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে তেহরানে ইউক্রেনের উড়োজাহাজ বিধ্বস্তের ঘটনায় পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে ইরান। এরই মধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে মঙ্গলবার জানিয়েছে দেশটির বিচার বিভাগ।

এদিকে, ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তিতে থেকে যাওয়া ইউরোপের তিন দেশ ব্রিটেন, জার্মানি ও ফ্রান্স তেহরানের ওপর কূটনৈতিক চাপ দিতে শুরু করেছে। যে কোনো উপায়ে ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি টিকিয়ে রাখতে চায় তারা।

এ ছাড়া ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ভয়াবহতা তুলে ধরে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। ঘাঁটিতে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা বলেছেন, তারা সেদিন অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছেন।

গ্রেপ্তারের বিষয়টি স্পষ্ট নয়: ইরানের বিচার বিভাগের মুখপাত্র গোলাম হুসেন ইসমাইলি মঙ্গলবার বলেন, 'উড়োজাহাজ বিধ্বস্তের ঘটনায় ভূমিকা থাকার অভিযোগে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।' তবে তারা কারা এবং কতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তা জানাননি তিনি। ঘটনাটির বিস্তারিত তদন্ত চলছে বলেও জানান তিনি।

এক টেলিভিশন ভাষণে মঙ্গলবার ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেছেন, অমার্জনীয় এ ভুলের জন্য যারা দায়ী, তাদের তদন্তের আওতায় আনা হবে। 'বিশেষ আদালতের' তদারকিতে এ তদন্ত চলবে। পুরো বিশ্ব এই আদালতের কার্যক্রমের দিকে তাকিয়ে থাকবে। দায়ীদের খুঁজে বের করে শাস্তি দেওয়া হবে।

কমান্ডার কাসেম সোলাইমানির হত্যার প্রতিশোধ নিতে গত ৮ জানুয়ারি ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। সেদিনই তেহরানের ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পর বিধ্বস্ত হয় ইউক্রেনের একটি উড়োজাহাজ। নিহত হন ১৭৬ আরোহীর সবাই। প্রথম দিকে অস্বীকার করলেও দু'দিন পর ইরান জানায়, ভুলবশত ভূপাতিত করা হয়েছে উড়োজাহাজটি।

পরমাণু চুক্তি বাঁচাতে ইউরোপের পদক্ষেপ: উড়োজাহাজ বিধ্বস্তের ঘটনায় দেশ-বিদেশে চাপের মুখে পড়েছে ইরান। এ চাপ কাজে লাগিয়ে পরমাণু চুক্তি বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করছে ইউরোপ। গতকাল ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের যৌথ বিবৃতিতে পরমাণু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরে আসা এবং ইরানের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করা হয়। একই সঙ্গে কূটনৈতিক পন্থায় ইরানকে চুক্তি মেনে চলার ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা কমাতে আহ্বান জানান তারা। পরমাণু চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে তেহরানের কোনো যুক্তিই মেনে নেবে না ইউরোপ।

২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি করে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, ফ্রান্স, ব্রিটেন ও জার্মানি। চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র বেরিয়ে যাওয়ায় এর ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়ে। সর্বশেষ কমান্ডার সোলাইমানি হত্যাকাণ্ডের পর ৬ জানুয়ারি চুক্তি থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে পূর্ণ মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের ঘোষণা দেয় ইরান।

অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা: কুদস ফোর্সের শীর্ষ কমান্ডার কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার বদলায় ইরাকের সামরিক ঘাঁটিতে তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তীব্রতায় বিস্মিত যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা। এতে তাদের অক্ষত থাকার ঘটনাকে তারা অলৌকিক বলেই মনে করছেন। ওই হামলায় আইন আল-আসাদ ঘাঁটির ক্ষয়ক্ষতির মাত্রাকে ইরানের ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর সক্ষমতার নজির বলে মনে করা হচ্ছে। গত সপ্তাহে ইরাকের আল-আসাদের পাশাপাশি দেশটির ইরবিলে আরও একটি ঘাঁটিতে হামলা চালায় ইরান।

আল-আসাদ ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিষয়ে সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের লেফটেন্যান্ট কর্নেল স্টাসি কোলম্যান সাংবাদিকদের বলেন, 'এটা অলৌকিক যে কেউ আঘাত পায়নি।' যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর এ নারী কর্মকর্তা ইরাকের পশ্চিম আনবার মরুভূমিতে অবস্থিত আইন আল-আসাদ এয়ারফিল্ডের পরিচালক। বিস্তৃত এলাকা নিয়ে নির্মিত এ ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় এক হাজার ৫০০ সেনা রয়েছে। কোলম্যান বলেন, 'কে ভেবেছিল যে তারা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাবে এবং কেউ হতাহত হবে না?' সূত্র :বিবিসি, আলজাজিরা ও রয়টার্স।