করোনাভাইরাসের বিস্তার নিয়ে প্রথম সতর্ক করা চীনের চিকিৎসক লি ওয়েনলিয়াংয়ের মৃত্যু ঘিরে দেশটিতে নজিরবিহীন মাত্রায় জনরোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে শোকের ছায়াও নেমে এসেছে।

চীনের উহানে নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসা দেওয়ার সময় এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যান লি ওয়েনলিয়াং। গত ৩০ ডিসেম্বর তিনি সহকর্মীদের কাছে একটি বার্তা পাঠিয়েছিলেন, যে বার্তায় তিনি 'সার্সে'র মতো দেখতে আরেকটি করোনাভাইরাসের বিষয়ে তাদের সতর্ক করেন। তবে ওই বার্তা পাঠানোর পর চীনের পুলিশ তাকে 'মিথ্যা মন্তব্য করা' বন্ধ করতে বলে এবং তার বিরুদ্ধে 'গুজব ছড়ানোর' অভিযোগ এনে তদন্ত শুরু করে। খবর বিবিসির

তার মৃত্যুর খবরটি চীনা সামাজিক মাধ্যম ওয়েইবোতে রীতিমতো ঝড় তোলে। অনেকটা টুইটারের আদলে বানানো ওয়েইবোতে এ সংক্রান্ত খবরে প্রচুর মানুষ প্রথম দিকে শোক প্রকাশ করে প্রতিক্রিয়া জানায়। তবে দ্রুতই তাদের এই শোক পরিণত হয় ক্ষোভে।

ইতোমধ্যে চীনা সরকারের বিরুদ্ধে ভাইরাসের ভয়াবহতাকে খাটো করে দেখা এবং শুরুর দিকে এ সংক্রান্ত তথ্য গোপন করার অভিযোগ তোলা হয়েছে। চিকিৎসক লির মৃত্যু চীনে বাকস্বাধীনতার অভাব বিষয়ক একটি আলোচনাও উস্কে দিয়েছে।

এ অবস্থায় চীনের দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা বলছে, 'ডা. লিকে জড়িয়ে ঘটনার' তদন্ত করবে তারা। এর আগে চীন সরকার করোনাভাইরাস মোকাবিলায় তাদের ব্যর্থতা ও ঘাটতি স্বীকার করে নিয়েছিল।

গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের উহানে প্রথমবারের মতো করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর চীনসহ প্রায় ২৫টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে প্রাণঘাতী এই ভাইরাস। এতে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত চীনের মূল ভূখণ্ডেই অন্তত ৬৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। চীনের বাইরে ফিলিইপাইনে ও হংকংয়ে মৃত্যু হয়েছে দু'জনের। অবশ্য ফিলিপাইনে মারা যাওয়া ব্যক্তিও চীনেরই নাগরিক। এই ভাইরাসে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ৩১ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

চীনের সর্বত্র করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় উৎপত্তিস্থল উহান শহরসহ বেশিরভাগ এলাকা কার্যত অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। বেশিরভাগ সড়ক বন্ধ রাখা হয়েছে। বন্ধ রয়েছে গণপরিবহনও। সংক্রমণ ঠেকাতে চীনের বিভিন্ন শহরেও নানা ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বিশ্বজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করেছে। এ ছাড়া বেশ কিছু দেশ চীনের নাগরিক বা চীন থেকে আগত অন্য দেশের নাগরিকদের জন্য ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।