করোনাভাইরাসে নিয়ে প্রথম সতর্ক করা চীনা চিকিৎসক লি ওয়েনলিয়াংয়ের মৃত্যুতে যখন গোটা চীন শোকে, বিক্ষোভে ফেটে পড়ছে, ঠিক তখনই জানা গেল করোনাভাইরাস নিয়ে স্পষ্ট কথা বলায় চেন কিউশি নামের এক নাগরিক সাংবাদিককে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। কিউশির বন্ধু ও স্বজনরা জানায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে তিনি নিখোঁজ রয়েছেন। 

সম্প্রতি চীনের হাজারো মানুষ অনলাইনে বাক স্বাধীনতার দাবি তোলেন।কিন্তু তাদের দাবি অগ্রাহ্য করে পরের দিন সকালে হ্যাশট্যাগের বিষয়ে সেন্সরশীপ দেয় চীনা সরকার।

এ ঘটনার পর পরই সাংবাদিক চেন নিখোঁজ হন। অনেকের ধারণা, উহানে করেনাভাইরাস সংক্রমণের বিষয় নিয়ে প্রতিবেদন করার কারণেই তাকে আটকে রাখা হয়েছে। পরে অবশ্য চেনের বন্ধুবান্ধব ও পরিবার পুলিশের কাছে জানতে পারে তাকে জোর করে কোয়ারেন্টাইন রাখা হয়েছে। 

রোববার চীনের সামাজিক মাধ্যম ওয়েইবোতে চেনের মুক্তির দাবি তুলেছেন অনেকে। স্পষ্ট কথা বলায় চিকিৎসক লিয়ের মতো সাংবাদিক চেনের সঙ্গে একই ঘটনা ঘটুক এটা কেউই চান না। 

একজন লিখেছেন, ‘আশা করি সরকার চেন কিউশির সাথে সুষ্ঠু ও ন্যায়সঙ্গত আচরণ করবে।’ আরেক ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘চিকিৎসক লি ওয়েনলিয়াংয়ের মতো ঘটনা ধারণ করার ক্ষমতা আর আমাদের নেই’। 

এর আগে উহানের ৩৪ বছর বয়সী চিকিৎসক লি ওয়েনলিয়াংয়ে যখন করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের বিষয়ে প্রথমদিকে অন্যদের সতর্ক করার চেষ্টা করেছিলেন, তখন তার কথা শোনার পরিবর্তে ‘গুজব ছড়ানো’র অভিযোগে পুলিশ তাকে আটক করে। পরে অবশ্য তিনি এক রোগীর মাধ্যমে একই ভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে মারা যান। 

লিয়ের মৃত্যুতে পুরো চীন জুড়ে বিক্ষোভ দেখা দেয়। সেই সঙ্গে সরকারের পক্ষ থেকে লিয়ের মৃত্যুর জন্য ক্ষমা প্রার্থনার দাবি ওঠে। সামাজিক মাধ্যমে , ‘বাকস্বাধীনতা চাই’ হ্যাশট্যাগটি ব্যবহার করে অনেকে বিক্ষোভ করেন। 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, উহানে করোনাভাইরাস আক্রণের পর শহরটি যখন গোটা দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন রাখা হয় এর ঠিক একদিন পর অর্থাৎ ২৪ জানুয়ারি চেন উহান যান । 

ওই সময় তিনি হাসপাতালে উপচে পড়া ভিড়, মৃতদের শবযাত্রা, বিচ্ছিন্ন ওয়ার্ডে যা দেখেছেন সেটারই ভিডিও আপলোড করেছেন অনলাইনে। করোনাভাইরাস নিয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির বাস্তবিক রূপের এক ঝলক দেখানোই ছিল তার উদ্দেশ্য। এরপরও তিনি ওই ভাইরাস নিয়ে একের পর এক প্রতিবেদন করেছেন। 

বন্ধুরা জানায়, উহানের ওইসব প্রতিবেদনের জন্য কর্তৃপক্ষ যেকোন সময় চেনকে আটকাতে পারে এমন আশঙ্কা তাদের সব সময়ই ছিল। এ কারণে বৃহস্পতিবার থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারায় তারা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। 

শুক্রবার সকালে টুইটারে একটি ভিডিও ম্যাসেজের মাধ্যমে চেনের নিখোঁজের বিষয়টি নিশ্চিত করেন তার মা । ওই ভিডি মেসেজে তিনি চেনকে খুঁজে বের করতে তার বন্ধুদের প্রতি আহবান জানান। সূত্র : সিএনএন