যুক্তরাষ্ট্রের ধর্মীয় স্বাধীনতাবিষয়ক আন্তর্জাতিক কমিশন (ইউএসসিআইআরএফ) দিল্লির চলমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা বলেছে, ‘দিল্লিতে যে সহিংসতা চলছে তাতে আক্রান্ত হচ্ছে শুধু মুসলিমরাই। আর আশ্চর্যজনকভাবে পুরো ঘটনায় প্রশাসন নীরব।’ 

তবে নয়াদিল্লি মার্কিন কমিশনের আনা এই অভিযোগ খারিজ করেছে বলে ভারতের সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

ইউএসসিআইআরএফের অভিযোগ, এই নৃশংস হামলা থেকে সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ ভারত সরকার।

ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে সরকারের ‘নীরবতা’ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সংস্থাটি। সংস্থাটির প্রধান টনি পার্কিনস এক বিবৃতিতে অভিযোগ করেছেন, 'আমরা দেখেছি দিল্লির সহিংসতায় বেছে বেছে মুসলিমদের আক্রমণ করা হচ্ছে। ওদের বাড়ি, দোকান পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। সরকারের প্রাথমিক দায়িত্বগুলির মধ্যে একটি হল, দেশের প্রত্যেক নাগরিককে ধর্মবিশ্বাস নির্বিশেষে নিরাপত্তা দেওয়া।'

ভারত সরকারের প্রতি আবেদন জানিয়ে পারকিনস বলেন, 'আমরা ভারত সরকারের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি, আপনারা উন্মক্ত জনতার হাত থেকে মুসলিমদের বাঁচান।'

মার্কিন কমিশনের এই বিবৃতির পরই টনক নড়ে নয়াদিল্লির। এ বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রবীশ কুমার এক টুইট বার্তায়, ইউএসসিআইআরএফের অভিযোগকে উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, 'এটা একেবারেই সত্যি নয়। এটি একটি একপেশে এবং বিভ্রান্তমূলক বিবৃতি।' 

তিনি আরও বলেন, 'এই বিবৃতিটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেও দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। সরকার হিংসা রুখতে উপযুক্ত পদক্ষেপ করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা সংস্থাগুলি হিংসা এড়িয়ে শান্তি ফেরানোর চেষ্টা করছে। প্রধানমন্ত্রী নিজে ভ্রাতৃত্বের বার্তা দিয়েছেন। শান্তি ফেরানোর আহ্বান জানিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে এই ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করা উচিত নয়।'

ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) ও জাতীয় নাগরিক নিবন্ধন (এনআরসি) নিয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলায় দিল্লিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৭–এ পৌঁছেছে। আহত দুই শতাধিক।