এএফপির বিশ্লেষণ

করোনার চাপে সংঘাত বাড়ার আশঙ্কা বিশ্বে

প্রকাশ: ২৩ মার্চ ২০২০     আপডেট: ২৩ মার্চ ২০২০       প্রিন্ট সংস্করণ

সমকাল ডেস্ক

নভেল করোনাভাইরাস বা কভিড-১৯ এখন বৈশ্বিক ত্রাসের নাম। প্রাণঘাতী এই অদৃশ্য শত্রু মোকাবিলা করতেই হিমশিম বিশ্ব। এই সংকটকালে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান সশস্ত্র গোষ্ঠী ও সরকারের মধ্যে সংঘাত তীব্র থেকে আরও তীব্রতর হবে নাকি প্রশমিত হবে, সেই প্রশ্ন সামনে এসেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে করোনাভাইরাস সংকট, বৈশ্বিক কূটনীতি ও রাজনীতি নিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি একটি বিশ্লেষণ করেছে। সেখানে উঠে এসেছে, বিশ্বের সংঘাতময় অঞ্চল, যেমন- সিরিয়া, লিবিয়া, ইয়েমেন, আফগানিস্তান এবং আফ্রিকার সাহেল অঞ্চলের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো করোনা পরিস্থিতির ওপর সজাগ দৃষ্টি রাখছে। জাতিসংঘের কূটনীতিকরা বলছেন, করোনা মহামারির মধ্যে ওই অঞ্চলগুলোতে আরও বেশি সংঘাতের ঝুঁকি রয়েছে।

ফ্রান্সের ইনস্টিটিউট অব পলিটিক্যাল স্টাডিসের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ বার্ট্রান্ড বাডাই বলেন, গেরিলা যোদ্ধা এবং চরমপন্থিদের কাছে পরিস্কারভাবে এটি সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদ। তিনি বলেন, ক্ষমতাশালী যখন শক্তিহীন হয়ে পড়ে, তখন দুর্বলরাও সবলদের ওপর বদলা নিতে পারে। কারণ তখন তারা তাদের কর্মকাণ্ড আরও বিস্তৃত করার সুযোগ পায়। সম্প্রতি আফ্রিকার দেশ মালির উত্তরাঞ্চলে হামলায় দেশটির ৩০ সেনা নিহত হন। এ ঘটনার জন্য উগ্র ইসলামপন্থিদের দায়ী করে দেশটি। তবে এ হামলার বিষয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের পক্ষ থেকে শক্ত কোনো প্রতিক্রিয়া আসেনি। যদিও আগে এ ধরনের ঘটনায় তারা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিত। করোনাভাইরাস বৈশ্বিকভাবে ছড়িয়ে পড়ার আগে লিবিয়া ও সিরিয়ার ইদলিব অঞ্চলে চলমান সংঘাত বিশ্ববাসীর নজরে ছিল। কূটনীতিকদেরও মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু ছিল ওই অঞ্চলগুলো। কিন্তু করোনাভাইরাস মহামারি আকার নেওয়ায় সংঘাতের বিষয় চাপা পড়ে গেছে।

এদিকে ইদলিব ও সিরিয়ায় করোনাভাইরাসের বিধ্বংসী প্রভাব ঠেকাতে সব পক্ষকে সংযত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের পলিটিক্যাল অ্যাফেয়ার্সের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল রোজমেরি ডিকার্লো। টুইটার বার্তায় তিনি এ আহ্বান জানান।

ইয়েমেনে জাতিসংঘের বিশেষ দূত মার্টিন গ্রিফিথসও একই কথা বলেছেন। তিনি বলেন, বিশ্ব এখন একটি মহামারির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে। এমন সময় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সংঘাত বন্ধ করা জরুরি। কারণ তাদের সংঘাতের ফলে মানুষ কঠিন ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে। এই ঝুঁকি এড়াতেই তাদের সংযত হওয়া উচিত।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যদিও এখন পর্যন্ত ওই অঞ্চলে করোনাভাইরাস ছড়ায়নি। কিন্তু এই ভাইরাস শক্তিশালী। একটা সময় সেটি দরিদ্র এবং সংঘাতময় দেশগুলোতেও ছড়াবে। এবং তার প্রভাব হবে বিধ্বংসী। সেখানে সম্মিলিত সহায়তার অভাবে লাখ লাখ মানুষ প্রাণ হারাতে পারে বলে আশঙ্কা করছে জাতিসংঘ।

একজন কূটনীতিক বলেছেন, এই মহামারি যুদ্ধে লিপ্ত বিশেষ কোনো গোষ্ঠীর জন্য উপকারী নয়। কারণ প্রাণঘাতী এই রোগটি নিয়ন্ত্রণের অসাধ্য। তিনি বলেন, এই ভাইরাসের কারণে মানবিক বিপর্যয় বাড়তে পারে। ফলে সংঘাতও বাড়তে পারে। তবে কিছু বিশেষজ্ঞ বলছেন, এই মহামারি উগ্র গোষ্ঠীগুলোর প্রাণশক্তি এবং আগামীতে তাদের যুদ্ধ করার সক্ষমতা নষ্ট করে দিতে পারে।