এলেন জনসন সারলিফ ছিলেন লাইবেরিয়ার প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট। শুধু তাই নয়, তিনি ছিলেন পুরো আফ্রিকা মহাদেশের প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট। ২০০৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত তিনি লাইবেরিয়ার নেতৃত্বে ছিলেন। এর মধ্যে ২০১৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত পশ্চিম আফ্রিকায় ছড়িয়ে পড়ে ভয়াবহ ইবোলা ভাইরাস। 

ভয়াবহ সেই ভাইরাসে লাইবেরিয়াতে পাঁচ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। এক পর্যায়ে সারলিফের নেতৃত্বে লাইবেরিয়ায় ছড়িয়ে পড়া সেই ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে আসে। কীভাবে লাইবেরিয়া সে মাহামারির প্রাদুর্ভাব কাটিয়ে উঠেছিল তার বর্ণনা বিবিসিকে দিয়েছেন শান্তিতে নোবেল জয়ী সারলিফ। তথ্য গোপন না করার ওপরে জোর দিয়েছেন তিনি। বর্তমানে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া নভেল করোনাভাইরাস বা কভিড-১৯ রোধে তার সে বার্তা দেখাতে পারে পথ। বিবিসিকে দেওয়া সারলিফের বার্তাটি এখানে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:

"২০১৪ সালের ১৯ অক্টোবর আমি বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে একটি চিঠি লিখি। ওই সময়টা লাইবেরিয়াসহ পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলোতে মহামারি আকারে ইবোলা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্ব নেতাদের একসঙ্গে সে অবস্থা মোকাবিলার আহ্বান জানিয়েছিলাম আমি। আজ, এই করোনাভাইরাসের মহামারির সময় আমি একই সংহতির বার্তা দিতে চাই।

পশ্চিম আফ্রিকায় যে সংকট ছয় বছর আগে দেখা দিয়েছিল, তার মাত্রা ছিল ভয়াবহ। লাইবেরিয়ার অর্থনীতি ও স্বাস্থ্যখাত- দু’টিই সেসময় ছিল ভঙ্গুর অবস্থায়। তখন আমি বিশ্ব নেতাদের বলেছিলাম- কোনো ছোট একটি অঞ্চলেও যদি অপ্রতিরোধী সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ে তাহলে তা পুরো বিশ্ব মানবতার জন্য হুমকি হয়ে দেখা দিতে পারে।

আমার সে বার্তা কাজে দিয়েছিল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র এগিয়ে এসেছিল। আমরা একসঙ্গে ইবোলা ভাইরাসকে নির্মূল করেছিলাম। এই করোনাভাইরাসের মহামারির সময়েও আমি বিশ্বনেতাদের প্রতি একই আহ্বান জানাতে চাই।

এটা পরিষ্কার যে, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ যখন ছড়াতে শুরু করে তখন এশিয়া, ইউরোপ বা আমেরিকা কোনো দেশের নেতাই বিষয়টিকে গুরুত্বসহকারে নেননি। এতে সময় নষ্ট হয়েছে ঢের। তথ্য গোপন করা হয়েছে। ছড়িয়েছে নানা বিভ্রান্তি। 

২০১৪ সালে ইবোলা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার শুরুতে আমিও একই ভুল করেছিলাম। পরে আমরা উপলব্ধি করলাম- এসব করে বিপদ বরং আরও বাড়ছে। তখন আমরা ভুল শুধরে নিতে শুরু করি।

ঠিক এই মুহূর্তে আমরা একটা সংকটময় পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে আছি। বিশ্বজুড়ে সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে আমরা যেন সেই একই ভুল না করি।

ইবোলা সংকট থেকে পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলো ঘুরে দাঁড়িয়েছে। সেই মহামারির পর লাইবেরিয়ার সমাজ ব্যবস্থা এখন আরও শক্তিশালী হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতকেও আমরা শক্তিশালী করতে সমর্থ হয়েছি। করোনাভাইরাস মোকাবিলায় যা আমাদের ভীষণ সহায়তা করবে।

বিশ্বকে সেই পথে হাঁটতে হবে যাতে সবার মঙ্গল হয়।"