করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে ইউরোপের বেশিরভাগ দেশে চলছে লকডাউন (অবরোধ)। ব্যতিক্রম শুধু সুইডেন। এই দেশটিতে জীবনযাত্রা চলছে স্বাভাবিকভাবেই। কঠোর নিয়ম-কানুন না করে করোনাভাইরাস রোধে দেশটিতে দেওয়া হচ্ছে নানা নির্দেশনা। বলা হয়েছে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে। সুইডেনের মানুষ এসব নির্দেশনা মেনেই যাপন করছে স্বাভাবিক জীবন।

সুইডেনে শীত শেষে এখন গরম পড়তে শুরু করেছে। রাজধানী স্টকহোমের পার্কগুলোতে মানুষ ঘুরে বেড়াচ্ছে। পরিবার নিয়ে অনেকে আইসক্রিম খাচ্ছেন। প্রেমিক-প্রেমিকারা বসে গল্প করছেন। শহরের নাইট ক্লাবগুলো ছিল খোলা। খবর বিবিসির 

তবে রোববার থেকে ৫০ জনের বেশি লোক জড়ো হওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এটা বলতেই হবে যে, শহরগুলোতে হইচই ব্যস্ততা বেশ কম। শহরের গণপরিবহন কোম্পানি এসএল বলছে, ট্রেন আর সাবওয়েতে লোকজন কমে গেছে প্রায় ৫০ শতাংশ। শহরের প্রায় অর্ধেক লোক ঘরে বসে কাজ করছে। 

সুইডেনে যখন মোটামুটি সব কিছু স্বাভাবিকভাবেই চলছে তখন ইউরোপের অন্য দেশগুলোতে চলছে নজিরবিহীন লকডাউন। যদিও সুইডেনে সাড়ে তিন হাজারের বেশি মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। মৃত্যু হয়েছে শতাধিক মানুষের।

সুইডেনের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ আশা করছে, কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ না করেও ভাইরাসের বিস্তার রোধ করা যাবে। কঠোর নিয়ম না করেও দেশটিতে কিছু নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। যেমন-অসুস্থ বা বয়স্ক হলে ঘরে থাকা, কিছুক্ষণ পরপর হাত ধোয়া, অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ না করা, বাড়িতে বসে কাজ করা।

প্রধানমন্ত্রী স্টেফান লফভেন এক টিভি ভাষণে বলেছেন, ‘সবাই দায়িত্বশীল আচরণ করবেন। আতংক সৃষ্টি করবেন না, গুজব ছড়াবেন না। এ সংকটে সবারই দায়িত্ব আছে।’

এক জরিপে দেখা গেছে দেশটির বেশিরভাগ মানুষ প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ শুনেছেন ও তার নির্দেশনা পালন করছেন। সুইডেনে সরকারি কর্তৃপক্ষের ওপর মানুষের আস্থাও অনেক বেশি।

সুইডেনের আরেকটি বৈশিষ্ট্য এ ক্ষেত্রে বেশ গুরুত্বপূর্ণ। দেশটির বেশিরভাগ বাড়িতেই এক বা দুইজন বাসিন্দা বাস করেন। এর ফলে পরিবারেও ভাইরাস ছড়ানোর সম্ভাবনা কম। তা ছাড়া সুইডিশরা বাড়ির বাইরের জীবন ভালোবাসেন। দেশটির নাগরিকদের বেশিরভাগই সুস্বাস্থ্যের অধিকারী। সুতরাং তাদের মধ্যে ব্যাপক হারে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনাও কম।

তবে সুইডেনের সরকারের এমন পদক্ষেপের সমালোচনাও করেছেন অনেকে। সুইডেনের মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যারোলিনস্কা ইন্সটিটিউটের একজন এপিডেমোলজিস্ট এমা ফ্রানজ মনে করেন, সরকারের এসব নির্দেশনা যথেষ্ঠ নয়। তার মতে দোকানপাট ও জনসমাগম হয় এমন সবকিছু বন্ধ করা উচিত। এমার মতো অনেকেই ইউরোপের অন্য দেশগুলোর মতো সুইডেনকেও লকডাউন করার পক্ষে।