করোনাভাইরাসের কারণে দেশজুড়ে চলছে লকডাউন। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। বন্ধ কলকারখানা। আর তারই প্রভাব পড়েছে গঙ্গার গায়ে। দূষণ কমেছে গঙ্গায়, স্বচ্ছ হয়েছে পানি। এতে খুশি গঙ্গা তীরবর্তী বারাণসী ও কানপুরের বাসিন্দারা। খবর এনডিটিভি ও এনএনআইর।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো ভারতও আক্রান্ত হয়েছে মহামারী ভাইরাস করোনায়। করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে গত ২৪ মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশজুড়ে ২১ দিনের লকডাউন ঘোষণা দেন। লোকজনকে অতিপ্রয়োজন ছাড়া ঘরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। লকডাউনের ভেতরে মানুষ রয়েছে ঘরবন্দি। তাই নদীর পানিতে ময়লা আবর্জনা কম ফেলা হচ্ছে। মানুষজনও গঙ্গায় গোসল করতে আসছে না। কলকারখানাও রয়েছে বন্ধ। এতেও দূষিত কেমিক্যালযুক্ত পানি গঙ্গায় পড়ছে না। ফলে লকডাউনের সুফল মিলেছে গঙ্গায়।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ২৪ মার্চের পর থেকেই দূষণ কমতে শুরু করেছে পুণ্যতোয়া গঙ্গায়। ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ দূষণ কমেছে এরইমধ্যে।

আইআইটি বিএইচইউয়ের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজির অধ্যাপক ড. পিকে মিশ্র জানান, ‘গঙ্গার দূষণের এক দশমাংশ আসে শিল্পকারখানা থেকে। যেহেতু শিল্পোৎপাদন এখন বন্ধ লকডাউনে, তাই গঙ্গায় পানির পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। আমরা গঙ্গায় ৪০-৫০ শতাংশ উন্নতি লক্ষ্য করেছি। এটা তাৎপর্যপূর্ণ উন্নতি।'

তিনি আরও বলেন, ‘২৫-২৬ মার্চ বৃষ্টি হওয়ায় এখানে গঙ্গার পানির স্তরও বেড়েছে। এর অর্থ নদীর পরিষ্কার হওয়ার ক্ষমতা বেড়ে গেছে। যদি আমরা ২৪ মার্চ থেকে শুরু লকডাউন এবং তার আগের পরিস্থিতির দিকে নজর রাখি, তাহলে দেখব অভাবনীয় উন্নতি হয়েছে।'

এদিকে গঙ্গার দূষণ কমায় বারাণসীর স্থানীয় মানুষ খুব খুশি। একজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, 'কদিন আগে আমরা গঙ্গার যে পানি ব্যবহার করেছি আর এখন যে পরিস্থিতি, তা দেখলে পার্থক্যটা বোঝা যায়। আজ পানি কত পরিষ্কার! এৱ অন্যতম কারণ, এখন কারখানা বন্ধ। মানুষজনও ঘাটে স্নান করতে আসছে না। যদি ১০ দিনেই এমন হয়ে থাকে, তাহলে আমার বিশ্বাস ব্যবস্থা নিলে অচিরেই গঙ্গা একেবারে আগে যেমন ছিল  তেমন হয়ে উঠবে।'

বারাণসীর মতো কানপুরেও স্থানীয়রা খুশি। এক বাসিন্দা বলেন, ‘লকডাউনের সময় গঙ্গা পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে। কেউই নিশ্চয়ই ভাবতে পারেননি, লকডাউনে পরিবেশের উপরে এমন প্রভাব পড়বে। গঙ্গার পরিষ্কার পানির দিকে তাকালে মন ভরে যায়।’