করোনায় কেন কিছু তরুণ মারা যাচ্ছেন

প্রকাশ: ০৬ এপ্রিল ২০২০   

অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা ৩০ বছর বয়সী বেন লুডার যখন অসুস্থ বোধ শুরু করলেন, তখন তিনি এতটা অবাক হন নি। কারণ তার কিছু দিন আগে, তার স্ত্রী ব্র্যান্ডির দেহে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়।
ব্র্যান্ডি জানান, যেহেতু তার তাপমাত্রা খুবই কম ছিল এ কারণে চিকিত্সকরা এটাকে জ্বর হিসেবে বিবেচনা করেননি। তার শরীর খারাপ হচ্ছিল। তারপরও তিনি অতটা চিন্তিত ছিলেন না।
একই অবস্থা ছিল বেন লুডারেরও। তিনি যখন অসুস্থ বোধ করতে শুরু করেছিলেন তখনও তিনি এতটা চিন্তিত হননি। সর্বোপরি, তারা দুজনই তরুণ এবং সুস্থ ছিলেন।
কিন্তু কয়েকদিনের মধ্যেই বেনের অবস্থা খারাপ হতে শুরু করে। তার শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। গত শুক্রবার তিনি তার স্ত্রী ব্র্যান্ডিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। ব্র্যান্ডি বলেন, বেন বেডরুমে এসে আমাকে জানায়, তার হাসপাতালে যেতে হবে।
ব্র্যান্ডি বলে, চাইলেও আমি বেনের সঙ্গে হাসপাতালে যেতে পারেননি। কারণ সেখানে কোনো ভিজিটরকে ঢুকতে দিচ্ছিল না। ব্র্যান্ডি জানান, বেন তাকে হাসপাতাল থেকেই খবর জানাচ্ছিল।
হাসপাতালে বেনকে প্রয়োজনীয়, ওষুধ দেয়া হচ্ছিল।  তারপর সন্ধ্যায় তাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে বলা হয়েছিল, বাড়িতে যা করছিলেন সেভাবেই থাকুন।
ব্র্যান্ডি জানান, রোববার বেন কিছুটা সুস্থ হয়ে ওঠেন। বিছানা থেকে উঠে রাতের খাবারও খান। কিন্তু রাতেই তার আবার একই সমস্যা দেখা দেয়।
সারারাত বেনের প্রচন্ড শ্বাসকষ্ট হয়। ব্রান্ডি যতটা সম্ভব তার সেবা-যত্ন করেন। রাত দুইটা দিকে বেন কিছুটা সুস্থ হওয়ায় ব্র্যান্ডি ঘুমাতে যান। ভোর ৬ টায় উঠে ব্র্যান্ডি তার স্বামীকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান।
বেন লুডারের মতো এমন ঘটনা গোটা বিশ্বের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের চিন্তিত করে তুলেছে। কিছু সুস্থ তরুণ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে কেন এভাবে মারা যাচ্ছে তা নিয়ে তারা বেশ চিন্তায় পড়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের প্রথম দিকের স্ন্যাপশট থেকে জানা যায়, করোনায় আক্রান্ত ২ হাজার ৪৪৪ জন রোগীর মধ্যে যারা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন তাদের শতকরা ১৮ ভাগ ছিলেন ৪৫ থেকে ৫৪ বছর বয়সী, শতকরা ২০ ভাগ ছিলেন ২০ থেকে ৪৪ বছর বয়সী।
যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষজ্ঞ ডা. অ্যান্টনি ফাউসি সিএনএন দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, এই ভাইরাসে অল্প বয়সীদের মারা যাওয়ার সম্ভাবনা খুব কম, তবে এমন অস্বাভাবিক প্যাটার্ন দেখা যাচ্ছে । এ কারণে করোনভাইরাসকে ’অস্বাভাবিক রোগ’ বলা যায়।
তিনি বলেন, এসব মৃত্যুর ক্ষেত্রে এমন কিছু ব্যাপার আছে যা এখনও পুরোপুরি জানা যায়নি। তিনি আরও বলেন, বেশি বয়স বা শারীরিক জটিলতাই কারণ নয়। আরও কিছু কারণ আছে। আশা করছি আমরা সেটা আগামীতে জানতে পারবো।
এদিকে বিজ্ঞানী এবং গবেষকরা ভাবছেন জিনগত কারণে এমনটি হচ্ছে। কেন কারও কারও ক্ষেত্রে ভাইরাসটি জটিল হয়ে উঠছে, কেনই বা কারও ক্ষেত্রে এটি মৃদু উপসর্গে দেখা দিচ্ছে সেটা নিয়ে এখনও গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।
বিশেষজ্ঞরা এখন শুধু বয়সীদের বা শারীরিক জটিলতা আছে তাদের নয়, সবাইকে একই কথা দিচ্ছেন। ভাইরাসটির সংক্রমণ প্রতিরোধে তারা সবাইকে বাড়িতে থাকতে, নিয়মিত হাত ধুতে এবং জনসমাগম এড়িয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।