বিশ্ব অর্থনীতির ওপর করোনাভাইরাসের বিরূপ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। জাতিসংঘের অঙ্গসংগঠন আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) এই পরিস্থিতিতে বিপুল সংখ্যক মানুষের পুরোপুরি বা আংশিক কর্মহীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। 

সংস্থাটি বলেছে, যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে তাতে বৈশ্বিক কর্মক্ষম মানুষের ৮১ শতাংশ আংশিক বা পুরোপুরিভাবে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। অর্থাৎ বিশ্বব্যাপী প্রতি ৫ জনে ৪ জন মানুষ আংশিক বা পুরোপুরি কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। বিশ্বজুড়ে মোট কর্মজীবী মানুষের সংখ্যা মোট ৩৩০ কোটি। মঙ্গলবার বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে বহু দেশে লকডাউন চলছে। মানুষের স্বাভাবিক চলাফেরার সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ রয়েছে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও। প্রায় সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। উৎপাদনে যাচ্ছে না অনেক প্রতিষ্ঠান। এই পরিস্থিতিতে অনেক প্রতিষ্ঠান কর্মীদের আংশিক অথবা সম্পূর্ণভাবে চাকরি থেকে অব্যাহতি দিচ্ছে।

আইএলওর মহাপরিচালক গাই রাইডার বলেন, শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছেন। উন্নত ও উন্নয়নশীল, দুই ধরনের দেশেই এ সংকট দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আমাদের সকলকে একসঙ্গে এগোতে হবে। জরুরি ভিত্তিতে কিছু পদক্ষেপ নিলে হয়তো এ পতন থেকে রক্ষা পাওয়া যেতে পারে।

২০২০ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে বিশ্বব্যাপী প্রতিষ্ঠানগুলো ৬ দশমিক ৭ শতাংশ কর্মঘণ্টা কমিয়ে দিতে পারে বলে মনে করছে আইএলও। এটি প্রায় ২০ কোটি পূর্ণকালীন কর্মজীবী মানুষের চাকরি হারানোর সমতুল্য। সবচেয়ে হুমকির মুখে পড়বে আরব অঞ্চলের দেশগুলো। এ অঞ্চলের ৫০ লাখ পূর্ণকালীন কর্মজীবী মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়তে পারেন। ফলে দেখা দিতে পারে অস্থিরতা।

আইএলও বলেছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এমন সংকট আর আসেনি। তবে এ সংকট মোকাবিলা দু’টি জিনিষের ওপর নির্ভর করছে বছরের শেষ ছয় মাসে বিশ্ব অর্থনীতি যদি ঘুরে দাঁড়াতে পারে ও একটি কার্যকরী নীতিমালার মাধ্যমে শ্রমের চাহিদা বাড়ালে।

চলতি বছর শেষে আড়াই কোটি মানুষের নতুন করে বেকার হয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছিল আইএলও। করোনাভাইরাসের কারণে সেই পূর্বাভাস আর টিকছে না।

বিশ্বজুড়ে নির্মাণ ও খাদ্য শিল্পে বড় অংশের মানুষ কাজ করনে। এই দু’টি খাতের সঙ্গে ছোট-বড় বহু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান জড়িত। সবমিলিয়ে ১২৫ কোটি মানুষ এ কর্মকাণ্ডে জড়িত। করোনভাইরাসের কারণে সর্বত্র স্থবিরতা বিরাজ করায় এ দু’টি খাতের ওপর নির্ভরশীলা পড়েছেন হুমকিতে।

আমেরিকা অঞ্চলের দেশগুলোর ৪৩ দশমিক ২ শতাংশ মানুষ উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ খাতে কাজ করেন। ইউরোপ ও মধ্য এশিয়ায় এ হার ৪২ দশমিক ১ শতাংশ। এ অঞ্চলগুলোতে অনানুষ্ঠানিক খাতের কর্মজীবী মানুষের সংখ্যা কম। তবে ভারত, নাইজেরিয়া, ব্রাজিলের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বিপুল সংখ্যক মানুষ অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে কাজ করেন। এসব অঞ্চলের এই শ্রমজীবী মানুষেরা করোনাভাইরাসের কারণে গভীর সংকটের মুখে পড়েছেন।