বিশ্বে খাদ্য সরবরাহ হুমকিতে পড়তে পারে: জাতিসংঘ

প্রকাশ: ১১ এপ্রিল ২০২০   

অনলাইন ডেস্ক

করোনাভাইরাসের কারণে চলমান লকডাউনে বিশ্বজুড়ে ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ থাকায় খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা হুমকিতে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। 

সংস্থাটি বলেছে, এই মহামারির জন্য বিশ্ব অদ্ভুতভাবে অপ্রস্তুত ছিল। তবে এখন সরবরাহ ব্যবস্থা গতিশীল এবং বিশ্ব বাণিজ্য উন্মুক্ত রেখে খাদ্য সংকট এড়ানো সম্ভব। খবর সিএনএনের।

গত মাসেই জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) জানায়, সুপার মার্কেটগুলোর শেলফগুলোতে খাদ্যের মজুত আছে। তবে মহামারি দীর্ঘায়িত হলে খাদ্য সরবরাহের জটিল শৃঙ্খল সংকটে পড়তে পারে; যেখানে কৃষষক, কৃষি উপকরণ, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ কারখানা, শিপিং, খুচরা বিক্রেতা ও অন্যান্য বিষয়গুলো জড়িত।

চলমান পরিস্থিতিতে এখনো খাদ্য সংকট দেখা না দিলেও প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস মোকাবিলায় বিশ্বজুড়ে কড়াকড়ি ব্যবস্থা আরও বেড়েছে। সীমান্তপথগুলো বন্ধ করা হয়েছে, বন্ধ করা হয়েছে গাড়ি চলাচল। বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে শিপিং ও বিমান চলাচলেও। এসব বিধিনিষেধের কারণে খাদ্য উৎপাদন চলমান রাখা ও বিশ্বজুড়ে খাদ্য সরবরাহ করাটা কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে অনেকে দেশের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

বিষয়টি নিয়ে বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে বিজ্ঞানী, রাজনীতিক, নেসলে ও ইউনিলিভারের মতো কোম্পানীর শীর্ষ কর্মকর্তারা এক খোলা চিঠিতে বলেছেন, কভিড-১৯ মহামারি যাতে বৈশ্বিক খাদ্য ও মানবিক সংকটে রূপ না নেয় সে জন্য দেশগুলোর সরকার, ব্যবসায়িক গোষ্ঠী, নাগরিক সমাজ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর দ্রুত ও সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া দরকার।

করোনাভাইরাসের এই সংকটে এরই মধ্যে খাদ্য-দ্রব্য রপ্তানি সমস্যায় পড়ার কথা জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। দেশটি তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্যের দুই-তৃতীয়াংশই রপ্তানি করে থাকে, বেশিরভাগই পাঠানো হয় এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোতে। তবে চলমান সংকটের কারণে জাহাজ ও বিমান চলাচল সীমিত থাকায় এসব দেশে খাদ্য-দ্রব্য রপ্তানি করতে পারছে না দেশটি। কৃষি পণ্য রপ্তানি করতে পারছে না আরও অনেক দেশ। 

এতে হংকং, সিঙ্গাপুরসহ যেসব দেশের খাদ্য-দ্রব্যের উৎপাদন পর্যাপ্ত নয়, তারা আরেক সংকটের দিকে এগুচ্ছে।