বিশ্বব্যাংকের হুঁশিয়ারি

অভিবাসী শ্রমিকরা ঘরে ফেরায় ছড়িয়ে পড়তে পারে করোনা

প্রকাশ: ১২ এপ্রিল ২০২০   

অনলাইন ডেস্ক

ছবি: বিবিসি

ছবি: বিবিসি

বিশ্বব্যাংক সর্তক করে বলেছে, করোনার সংক্রমণ যেসব এলাকায় এখনও ঘটেনি, অভিবাসী শ্রমিকদের ঘরে ফেরার কারণে ওইসব রাজ্য বা গ্রামে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়তে পারে। দক্ষিণ এশিয়া বিশেষ করে ভারতের অনেক এলাকায় করোনার বিস্তারের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে এ ধরণের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে।

রোববার ‘সাউথ এশিয়া ইকোনমিক আপডেট: কোভিড ১৯’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে এ কথা জানিয়েছে বিশ্বের সর্বোচ্চ আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিশ্ব্যিাংক। প্রতিবেদনে ভারতের পাশাপাশি বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের বিষয়েও সতর্কবার্তা উঠে এসেছে। খবর এনডিটিভির।

করোনাভাইরাসের সচেতনতা নিয়ে বিশ্বব্যাংকের নতুন রিপোর্টটিতে দক্ষিণ এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়া এমন একটি এলাকা, যেখানে সবচেয়ে বেশি মানুষের বসবাস। বিশেষ করে শহুরে এলাকায় রয়েছে অতিঘনবসতি এবং সেখানে অভ্যন্তরীণভাবে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকানো ভয়ানক কঠিন একটি চ্যালেঞ্জ। শহরের বস্তি এলাকা এবং অভিবাসী শ্রমিকদের মতো অরক্ষিত মানুষগুলো সহজেই সংক্রমণের শিকার হতে পারেন।

বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশে করোনার আক্রমণের জেরে রাতারাতি বহু জায়গায় পরিবহন ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যায়। যার ফলে শ্রমিকদের ঘরে ফেরার তাড়াহুড়ো পড়ে যায়। আর সেই কারণেই বহু জায়গায় জনসমাগম তৈরি হয়। এতে সামাজিক দূরত্ব নীতি ব্যাহত হয়। লকডাউনও ভেঙে পড়ে। এর জেরে এসব অঞ্চলে করোনার বিপুল প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে অভিবাসী শ্রমিকরা যেসব রাজ্য বা গ্রামে ফিরছেন, সেখানে করোনার সংক্রমণ বেড়ে যেতে পারে।

বিশ্বব্যাংকের রিপোর্টে আরও বলা হয়, যেসব এলাকায় শ্রমিকরা পৌঁছাচ্ছেন, সেই এলাকাগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে নজরদারি করা ভালো। কারণ, এ সব এলাকায় কোভিড-১৯ এর ঘটনা আরও বাড়তে পারে।

বিশ্বব্যাংকের দাবি, পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ভারতে আগে সংক্রমণের ঘটনা ঘটেনি, এমন এলাকায় অভিবাসী শ্রমিকদের ফেরার কারণে করোনা বিস্তার ঘটেছে। এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল ভারতের হটস্পটগুলিতে চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া। সেক্ষেত্রে পরিযায়ী শ্রমিকদের দিকেও নজর দিতে হবে।