রাশিয়ার মহাকাশচারী ওলেগ স্ক্রিপোচকা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নারী মহাকাশচারী জেসিকা মেয়ার গত বছর সেপ্টেম্বরে পৃথিবী ছেড়েছিলেন। ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশন (আইএসএস) ছিল তাদের গন্তব্য। সে বছর জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আরেক মহাকাশচারী গিয়েছিলেন আইএসএসে। তখন পৃথিবীতে নভেল করোনাভাইরাস বা কভিড-১৯ রোগের অস্তিত্ব ছিল না। কিন্তু তারা যখন ফিরে এলেন, তখন সে পৃথিবী আর আগের পৃথিবী নেই। অনেক কিছুই বদলে দিয়েছে কভিড-১৯ নামের এক ভাইরাস।

যুক্তরাষ্ট্রের মাহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান নাসার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওই তিন মহাকাশচারীকে বহনকারী ক্যাপসুলটি স্থানীয় সময় শুক্রবার ভোরে কাজাখাস্তানে অবতরণ করে।

বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্যাপসুল থেকে তিন মহাকাশচারীকে নামিয়ে আনতে যান মাস্ক পরা কয়েকজন ব্যক্তি।

সম্প্রতি আইএসএস থেকে ভিডিও বার্তায় জেসিকা মেয়ার জানিয়েছিলেন, পৃথিবীতে যে পরিবর্তন ঘটে গেছে তা মহাকাশ থেকে বোঝার উপায় নেই। কারণ মহামারির সময়টিতেও মহাকাশ থেকে পৃথিবীকে দেখতে আগের মতোই অত্যাশ্চর্য লাগছে।

যে ব্যক্তিরা মাস্ক পরে তিন মহাকাশচারীকে ক্যাপসুল থেকে বের করতে গিয়েছিলেন তাদেরকে আগে থেকেই কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছিল। তারপরও ঝুঁকি বিবেচনায় তাদের করোনাভাইরাসের পরীক্ষা করা হয়। যাতে মহাকাশচারীরা উদ্ধারকারী দলের মাধ্যমে করোনা আক্রান্ত না হন।

স্বাভাবিক সময়ে মহাকাশচারীরা কাজাখাস্তানে অবতরণ করার পর তাদের কাছের বিমানবন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকেই তারা যার যার দেশের উদ্দেশে রওনা হন। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে সম্প্রতি কাজাখাস্তানে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। ফলে দেশটির প্রায় সবগুলো বিমানবন্দরই বন্ধ।

এমন পরিস্থিতিতে তিন মহকাশচারীকে নিয়ে যাওয়া হয় কাজাখাস্তানেরই দ্য বাইকনুর স্পেস লঞ্চ প্যাডে। কাজাখাস্তানের কাছ থেকে লিজ নিয়ে প্যাডটি চালাচ্ছে রাশিয়া। দ্য বাইকনুর স্পেস লঞ্চ প্যাডে যাওয়ার পর রুশ মহাকাশচারীকে নিয়ে যাবে রাশিয়া। সেখান থেকেই নাসার পাঠানো আরেকটি বিমানে দেশে ফিরবেন যুক্তরাষ্ট্রের দুই মহাকাশচারী।

বাড়ি ফেরার পর তাদের কঠোর নিয়েমের মধ্যে রাখা হবে। তাদের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করবেন চিকিৎসকরা। কারণ যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক হারে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। সংক্রমণ দ্রুত ছড়াচ্ছে রাশিয়াতেও।

যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশচারী জেসিকা মেয়ার বলেন, সাত মাস পর ফিরে পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদের জড়িয়ে ধরতে না পারাটা খুবই কষ্টের। আমার তো মনে হচ্ছে, মহাকাশের চেয়ে পৃথিবীতেই বরং আমি আরও বেশি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লাম।