করোনাভাইরাসের কারণে অর্থনীতির যে বেহাল দশা তৈরি হয়েছে তার প্রভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) দেশগুলো ও ব্রিটেনের ৬ কোটি মানুষ স্থায়ী বা সাময়িকভাবে চাকরি থেকে ছাঁটাই হতে পারেন। এ ছাড়া তাদের মজুরি কমে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। প্রতি চারজন কর্মজীবীর একজন এমন ঝুঁকিতে রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ম্যাকিনজির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
সিএনএন অনলাইনের খবরে বলা হয়েছে, সোমবার ম্যাকিনজির প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়। তাতে সতর্ক করে বলা হয়েছে, খুব শিগগির করোনাভাইরাসের রাশ টানতে না পারলে ইউরোপে বেতারত্বের হার বাড়তে থাকবে। বর্তমানে ৬ শতাংশ বেকারত্বের হার আগামী বছর নাগাদ ১১ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।
ইইউ ও ব্রিটেনে প্রায় সাড়ে ৫ কোটি মানুষ খুচরা দোকানের ক্যাশিয়ার, বাবুর্চি, নির্মাণ শ্রমিক, হোটেল স্টাফের মতো উচ্চ ঝুঁকির কাজে নিয়োজিত। এই মানুষগুলো কাজ হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন। কলেজের ডিগ্রি নেই এমন ৮০ শতাংশ কর্মজীবীও রয়েছেন স্থায়ী বা সাময়িকভাবে চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে।
ম্যাকিনজির প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, এই পরিস্থিতিতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও সরকারকে একসঙ্গে মিলে মানুষকে চাকরির নিরাপত্তা দিতে হবে। প্রতিষ্ঠানগুলোকে কর ছাড়, ব্যাংক লোন বা সরকারের পক্ষ কর্মীদের বেতন ও চাকরির সুরক্ষা দিতে হবে। ইউরোপের অনেক দেশে এ কার্যক্রম ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারেও করোনাভাইরাস ভীষণ আঘাত হেনেছে। ১৪ মার্চের পর থেকে দেশটির ২ কোটি ২০ লাখ মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। যা যুক্তরাষ্ট্রের মোট কর্মজীবী মানুষের ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ।
ফেব্রæয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্বের হার ছিল ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। মার্চে সেটি বেড়ে হয়েছে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ। এপ্রিল শেষে বেকারত্বের এই হার দুই অঙ্কে পৌঁছাতে পারে