মুক্তির স্বাদ পেল স্পেনের শিশুরা

প্রকাশ: ২৬ এপ্রিল ২০২০   

অনলাইন ডেস্ক

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে মার্চের মধ্যবর্তী সময়ে স্পেনের সরকার লকডাউন ঘোষণা করায় অনেকেই খুশি হয়েছিল- যাক কিছুদিন অন্তত ঘরে থাকা যাবে, কাটানো যাবে শুয়ে-বসে কিংবা টেলিভিশন দেখে। বিশেষ করে শিশুরা খুশি হয়েছিল আরও বেশি- স্কুলে যেতে হবে না! তবে দীর্ঘ দেড় মাস ঘরবন্দি থেকে ছোটবড় সবারই যেন মন অশান্ত হয়ে উঠেছিল। রীতিমত দাবি ওঠে, বাইরে বের হওয়ার অনুমতি দেওয়ার। অবশেষে বাইরে বেরুতে পারলো স্পেনের শিশুরা। তবে আংশিকভাবে। বলা হয়েছে, ১৪ বছরের নিচের শিশুরা কেবল ঘরের বাইরে বেরুতে পারবে। ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সের শিশুরা এখনও বাইরে যেতে পারবে না।

নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, একটি শিশু দিনে একবার এক ঘণ্টার জন্য বাইরে বেরুতে পারবে। আর বাসা থেকে এক কিলোমিটারের বেশি দুরে যেতে পারবে না।

নতুন নিয়মের কারণে বাইরে বের হতে পারছে না মাাদ্রিদের ১৫ বছরের শিশু মিগুয়েল সানচেজ। এ জন্য তার মন খারাপ। সে বের হতে না পারলো, তার এক বছরের ছোট ভাই জিম বাইরে যেতে পারছে খেলতে। এজন্য আরও বেশি মন খারাপ মিগুয়েলের।

মিগুয়েলের মা স্কুলশিক্ষিকা ক্রিস্টিনা কারাসকো জানান, একজন বাইরে যেতে পারছে, আরেকজন পারছে না। এতে মন খারাপ মিগুয়েলের। তার প্রশ্ন, কেন আমার ভাই বাইরে যেতে পারলেও আমি পারছি না।

ক্রিস্টিনা জানান, কিশোর বয়সী হয়েও সে তার বন্ধুদের সঙ্গে খেলতে পারছে না, বাইরে যেতে পারছে না। এতে মিগুয়েলের মতো সব শিশু-কিশোরই মানসিকভাবে বিপর্যন্ত হয়ে পড়েছে।

শিশুদের মানসিক অবসাদের কথা বিবেচনা করেই গত সপ্তাহে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী লকডাউন শিথিল করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন মনোবিদরা।

মাদ্রিদের দাতব্য সংস্থা অ্যাসোসিয়েশন বিনেস্টারের পরিচালক ও মনোবিজ্ঞানী লরা পিনেরিও বলেন, শিশুরা বাইরে যেতে পারলে তাদের মানসিক অবসাদ দুর হবে। ঘরের বাইরে যাওয়া ও সূর্যালোক দেহে লাগানো শিশুদের জন্য অবশ্যই দরকারি।

স্পেনে আগামী ১২ জুন নাগাদ লকডাউন পুরোপুরি তুলে নেওয়া হতে পারে বলে আভাস দিয়েছেন দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী সালভাদর ইলা।

প্রসঙ্গত, করোনা ভাইরাস মহামারীতে স্পেনে এ পর্যন্ত মারা গেছেন ২২ হাজার ৯০০ জন। আক্রান্ত হয়েছেন ২ লাখ ২৪ হাজার মানুষ। তবে সুস্থ্য হয়েছেন ৯৬ হাজার। সূত্র: বিবিসি।