লকডাউনে বাড়ি ফিরতে পেঁয়াজ ব্যবসায়ী বনে গেলেন তিনি

প্রকাশ: ২৬ এপ্রিল ২০২০     আপডেট: ২৬ এপ্রিল ২০২০   

অনলাইন ডেস্ক

প্রেম মূর্তি পান্ডে ভারতের মুম্বাই বিমানবন্দরে কাজ করেন। তার বাড়ি উত্তর প্রদেশের এলাহাবাদের একটি গ্রামে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে ভারতে লকডাউন শুরু হলে অন্য অনেকের মতো তিনিও আটকা পড়েন। প্রথম কয়েকদিন মুম্বাইয়ে আটকে থাকার পর গ্রামে চলে যাওয়া শ্রেয় মনে করেছিলেন পান্ডে। কিন্তু কীভাবে যাবেন তিনি লকডাউনের মধ্যে? তখনই পান্ডের মাথায় এলো বাড়ি ফেরার এক অভিনব বুদ্ধি।

বার্তা সংস্থা পিটিআইকে পান্ডে বলেন, তিনি থাকেন মুম্বাইয়ের আজাদ নগরে। এই এলাকাটি খুবই ঘিঞ্জি। সেখানে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে থাকতে চাননি তিনি সেখানে।

ওদিকে আবার করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে বাস, ট্রেন, বিমান বন্ধ। পান্ডে বলেন, তার মনে হচ্ছিল সরকার কিছুদিনের মধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য যেমন- ফল বা সবজি পরিবহণে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করবে। সে সুযোগ এলো এক পর্যায়ে।

১৭ এপ্রিল ছোট একটি ট্রাকে মুম্বাই থেকে ২০০ কিলোমিটার দূরে পিমপলগাঁওয়ে এক হাজার ৩০০ কেজি তরমুজের একটি চালান পাঠান পান্ডে। এই চালানটিকে ছোটখাটো পরীক্ষা বলা যেতে পারে।

এরপর আরও একটু বড় কারবারে যুক্ত হলেন পান্ডে। এবার তিনি ৯ রুপি কেজি দরে ২৫ হাজার কেজি পেঁয়াজ কিনলেন। ৭৭ হাজার রুপি দিয়ে একটি ট্রাক ভাড়া করলেন। ২০ এপ্রিল ২৫ হাজার কেজি পেঁয়াজ সে ট্রাকে তুলে পান্ডে রওনা দিলেন এলাহাবাদে নিজের বাড়ির উদ্দেশে।

বাড়ি যাওয়ার আগে এলাহাবাদ শহরের বাইরে একটি বাজারে পেঁয়াজগুলো বেঁচতে চেয়েছিলেন পান্ডে। কিন্তু সেখানে কোনো ক্রেতা সেদিন ছিল না। তাই পান্ডে ট্রাকটি সরাসরি নিজের বাড়ি নিয়ে যান এবং সেখানেই পেঁয়াজগুলো রাখেন।

স্থানীয় থানার কর্মকর্তা অরবিন্দ কুমার সিং জানান, গত শুক্রবার থানায় এসেছিলেন পান্ডে। স্বাস্থ্যকর্মীদের একটি দল তাকে পরীক্ষা করেছেন। এখন তিনি বাড়িতেই কোয়ারেন্টাইনে আছেন।

ভালো দাম পেলে পেঁয়াজগুলো বেঁচে দেবেন বলে জানিয়েছেন পান্ডে।