করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্রে সামনের সারিতে থাকা তিন শীর্ষ স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ স্বেচ্ছা কোয়ারেন্টাইনে গেছেন। রোববার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই তিন বিশেষজ্ঞ হোয়াইট হাউসের এক কর্মীর সংস্পর্শে এসেছিলেন, পরে যার মধ্যে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ে। এরপরই তারা স্বেচ্ছায় কোয়ারেন্টাইনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

হোয়াইট হাউসের করোনা টাস্ক ফোর্সের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ও ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিসের পরিচালক ডা. অ্যান্থনি ফুচি স্বেচ্ছা কোয়ারেন্টাইনে যাওয়া ব্যক্তিদের একজন। ৭৯ বছর বয়সী এই চিকিৎসক নিজেই সিএনএনকে ‘সীমিত কোয়ারেন্টাইনে’ যাওয়া কথা বলেছেন।

ইতোমধ্যে ডা. ফুচিকে একবার পরীক্ষা করা হয়েছে এবং তিনি করোনায় আক্রান্ত নন বলে ফল এসেছে। এখন থেকে তাকে প্রতিদিন পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

স্বেচ্ছা কোয়ারেন্টাইনে যাওয়া আরেক চিকিৎসক হলেন রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের পরিচালক (সিডিসি) রবার্ট রেডফিল্ড। তিনি ‘কম ঝুঁকিতে রয়েছেন’ বলে ধারণা করা হলেও পুরো দুই সপ্তাহ ঘরবন্দি থাকবেন। ৬৮ বছর বয়সী রেডফিল্ড এ সময় টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে জরুরি কাজ সারবেন।

যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের কমিশনার স্টিফেন হান স্বেচ্ছা কোয়ারেন্টাইনে গেছেন। যদিও তার করোনাভাইরাস পরীক্ষার ফল এসেছে নেগেটিভ। ৬০ বছর বয়সী হানকে পুরো দুই সপ্তাহ ঘরবন্দি থাকতে হবে।

আগামী মঙ্গলবার এই তিন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সিনেট শুনানিতে হাজির হওয়ার কথা ছিল। যুক্তরাষ্ট্রে লকডাউন শিথিল করে ব্যবসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার ব্যাপারেই ওই শুনানির আয়োজন করা হয়েছিল।

করোনভাইরাসে বয়স্কদের মৃত্যু হার বেশি। সিডিসির তথ্য মতে, যুক্তরাষ্ট্রে করোনা আক্রান্ত হয়ে যারা মারা গেছেন তাদের ১০ জনের মধ্যে ৮ জনেরই বয়স ৬৫ বছর বা তার বেশি।

পলিটিকোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওষুধ প্রশাসনের প্রধান হান ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সের প্রেস সচিব কেটি মিলারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তা কেটি গত শুক্রবার করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন। এরপরই স্বেচ্ছায় ঘরবন্দী হন তিন শীর্ষ স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।