আক্রান্তের সংখ্যায় স্পেন-ইতালিকে ছাড়াল ব্রাজিল

প্রকাশ: ১৮ মে ২০২০     আপডেট: ১৮ মে ২০২০   

অনলাইন ডেস্ক

নতুন করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যায় ইউরোপের দুই দেশ স্পেন ও ইতালিকে ছাড়িয়ে গেছে ব্রাজিল। সবচেয়ে বেশি আক্রান্তের সংখ্যা বিবেচনায় ল্যাটিন আমেরিকার দেশটি এখন চার নম্বরে অবস্থান করছে। এর আগে রয়েছে শুধু যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও যুক্তরাজ্য।

সোমবার বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রাজিলে নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন সাত হাজার ৯৩৮ জন। সবমিলিয়ে দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ৪১ হাজার।

মৃতের সংখ্যাও লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে ব্রাজিলে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে ৪৮৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ১১৮ জনে। মৃতের সংখ্যা বিবেচনায় ব্রাজিলের অবস্থান বিশ্বে পঞ্চম।

ব্রাজিলের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, সরকার আক্রান্ত-মৃতের যে হিসাব দেখাচ্ছে প্রকৃত সংখ্যা তার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে। যথাযথ পরীক্ষার অভাবে বহু আক্রান্তকে শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। ইউনিভার্সিটি অব সাও পাওলো মেডিকেল স্কুলের গবেষক ডমিঙ্গো আলভেস তার গবেষণার বরাত দিয়ে বলেন, প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা বর্তমান আক্রান্তের চেয়ে ১৫ গুণ বেশি হতে পারে।

সংক্রমণ রোধে লকডাউনের ঘোরবিরোধী ব্রাজিলের উগ্র-ডানপন্থি প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারো। তার করোনাভাইরাস মোকাবিলার পদ্ধতি নিয়ে দেশে এবং বিদেশে ব্যাপক সমালোচনা চলছে। প্রেসিডেন্টের নিষ্ক্রিয় পদক্ষেপের কারণেই করোনাভাইরাসের অন্যতম মূল কেন্দ্র (হটস্পট) হয়ে উঠছে ব্রাজিল- এমন অভিযোগ উঠেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলার আহ্বান জানানো হলেও প্রেসিডেন্ট বোলসানারো নিজেই সেসবের ধার ধারছেন না। স্থানীয় সময় রোববার সমর্থকদের সঙ্গে জটলা পাকিয়ে ছবি তুলতে দেখা গেছে তাকে। সেখানে অনেক শিশুকেও দেখা গেছে।

প্রেসিডেন্ট বোলসোনারো করোনাভাইরাসকে সাধারণ ফ্লু মনে বলে করলেও মানবিক সংকটের চিত্র উঠে এসেছে সাও পাওলোর মেয়রের কথায়। সাও পাওলো ব্রাজিলের সবচেয়ে জনবহুল শহর।

স্থানীয় সময় রোববার সাউ পাওলোর মেয়র ব্রুনো কভাস সতর্ক করে বলেছেন, শহরের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা যে কোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে। সরকারি হাসপাতালগুলোয় জরুরি বিভাগের ধারণ ক্ষমতা প্রায় পূর্ণ হয়ে গেছে। কিন্তু তারপরও নতুন রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলছে।

এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে কিছুদিনের মধ্যে মানবিক সংকট শুরু হতে পারে শহরটিতে। তাই সংক্রমণ ঠেকাতে সাও পাওলোর গভর্নরকে শিগগির কড়া লকডাউন ঘোষণার আহ্বান জানিয়ে জরুরি বৈঠক করেছেন মেয়র কভাস।

গত এপ্রিলে প্রেসিডেন্ট বোলসোনারো নিজে লকডাউনবিরোধী বিক্ষোভে শামিল হয়েছিলেন। লকডাউনের কারণে দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে এর বিরোধী তিনি। করোনাভাইরাস মোকাবিলার পদ্ধতি নিয়ে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে মতবিরোধের জেরে এক মাসের ব্যবধানে দেশটির দু’জন স্বাস্থ্যমন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন।