ভারতে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো আক্রান্তের সংখ্যা ৫ হাজার পেরিয়ে গেল। দেশটিতে বুধবার ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৫৬০৯ জন। এটি এখন পর্যন্ত একদিনে সর্বোচ্চ আক্রান্তের রেকর্ড। এ নিয়ে দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ১২ হাজার পেরিয়ে গেল। এদিন মৃত্যু ঘটেছে ১৩২ জনের। এ নিয়ে মোট প্রাণহানি দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৪৩৫ জনে। করোনা নিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। খবর এনডিটিভির। 

স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী,  করোনায় দেশটিতে দু’দিন ধরে যেমন আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে সুস্থ হওয়ার হারও। আক্রান্তদের মধ্যে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৪৫ হাজার ৩০০ জন। ফলে সক্রীয় রোগী রয়েছে ৬৩ হাজাারা ৬২৪ জন। বর্তমানে সুস্থ হওয়ার হার ৪০.৩১ শতাংশ। 

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, করোনায় সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু, গুজরাট ও দিল্লির বাসিন্দারা। মহারাষ্ট্রের আক্রান্তের সংখ্যা ৪০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।  মারা গেছে ১৩৯০ জন। তামিলনাড়ুতে ১৩ হাজার ১৯১ জন আক্রান্ত হয়েছে, মারা গেছে ৮৭ জন।  এছাড়া গুজরাটে সাড়ে ১২ হাজার আক্রান্ত ও মারা গেছে ৭৪৯ জন। রাজস্থানে ১১ হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়েছে।  

এদিকে করোনার প্রকোপ নাম কমলেও ধাপে ধাপে লকডাউন তুলে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। দীর্ঘ দুই মাস বন্ধ থাকার পর অভ্যন্তরীণভাবে বিমান চলাচল চালু হচ্ছে আগামী সোমবার থেকে। বুধবার বিকেলে কেন্দ্রীয় বিমানমন্ত্রী হরদীপ সিংহ পুরী এক টুইটে জানান, ২৫ মে থেকে অভ্যন্তরীণ বিমান পরিষেবা শুরু হবে। কলকাতাসহ দেশের সব বিমানবন্দরকে এজন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।

করোনার জন্য গত ২৪ মে রাত ১২টার পর সব অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চালানোর উপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। তারও দু’দিন আগে থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। 

এদিকে এরইমধ্যে রেল চলাচল সীমিত আকারে চালু করা হয়েছে। তবে আগামী ১ জুন থেকে প্রতিদিন ২০০ যাত্রীবাহি ট্রেন চলবে। এরমধ্যে এসি-ননএসি দুটিই থাকবে। আর যাত্রীদের ট্রেনে ওঠার আগে স্ক্রিনিং করা হবে। কোনোভাবে কারও দেহে করোনার উপসর্গ পাওয়া গেলে তাদের ট্রেনে চড়তে দেওয়া হবে না বলে বৃহস্পতিবার জানিয়েছে রেলমন্ত্রণালয়।