'হার্ড ইমিউনিটি'র ধারে কাছেও নেই সুইডেন

প্রকাশ: ২২ মে ২০২০     আপডেট: ২২ মে ২০২০   

অনলাইন ডেস্ক

ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় নতুন করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকানোর ক্ষেত্রে সুইডেনের পদক্ষেপ ছিল ভিন্ন। কঠোর লকডাউনের পথে দেশটি হাঁটেনি। খোলাখুলি না বললেও ‘হার্ড ইমিউনিটি’ বা জনসংখ্যার বড় একটি অংশের মধ্যে প্রাকৃতিকভাবে ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ তৈরির পথে হেঁটেছে সুইডেন। এ পথে হাঁটার পর দেখা গেছে, এপ্রিল শেষে রাজধানী স্টকহোমের মাত্র ৭ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষের মধ্যে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সিএনএনের কাছে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে সুইডেনের পাবলিক হেলথ অথরিটি। স্টকহোমের মানুষের মধ্যে অ্যান্টিবডি তৈরি হওয়ার হার অন্যান্য দেশের মতোই। কঠোর লকডাউনে থাকার পরও ১৪ মে পর্যন্ত স্পেনের ৫ শতাংশ মানুষের মধ্যে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। কোনো রোগ প্রতিরোধের জন্য একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের মোট জনসংখ্যার ৭০ থেকে ৯০ শতাংশ মানুষের মধ্যে হার্ড ইমিউনিটি গড়ে উঠতে হয়।

সুইডেনের প্রধান এপিডেমিওলজিস্ট অ্যান্ডার্স টেগনেল বলেন, যা আশা করা হয়েছিল তার থেকে সংখ্যাটি সামান্য কম, খুব বেশি নয়।

জনগণের মধ্যে কী মাত্রায় হার্ড ইমিউনিটি গড়ে উঠেছে তার হিসাব রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সুইডেনের পাবলিক হেলথ এজেন্সি। এ জন্য প্রতি সপ্তাহে এক হাজার ১১৮ জনের অ্যান্টিবডি পরীক্ষা করা হবে। আট সপ্তাহ ধরে চলবে এ পরীক্ষা। এরপরই দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মানুষদের মধ্যে গড়ে ওঠা হার্ড ইমিউনিটির ফলাফল একত্রে প্রকাশ করবে দেশটি।

নরডিক দেশগুলো যখন করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে কঠোর লকডাউনে ছিল, তখন সুইডেনে স্কুল, রেস্তোরাঁ, বার- সবই খোলা ছিল। তবে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কড়া সরকারি নির্দেশনা ছিল।

সরকারের এ পদক্ষেপকে সুইডেনের অনেক বিশেষজ্ঞ বেশ সমালোচনার দৃষ্টিতে দেখছেন। তারা মনে করেন, এভাবে হার্ড ইমিউনিটির পথে হাঁটার জন্য যথেষ্ট সমর্থন জনগণের মধ্য থেকে ছিল না। যদিও সরকার বলেছে, হার্ড ইমিউনিটির পথে হাঁটা তাদের কৌশল নয়।

হার্ভার্ড টি.এইচ চ্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথের অধ্যাপক মাইকেল মিনা বলেন, করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে এখনও কোনো দেশেরই ৭০ থেকে ৯০ শতাংশ জনসংখ্যার মধ্যে হার্ড ইমিউনিটি গড়ে ওঠেনি। তবে যত দ্রুত টিকা পাওয়া সম্ভব হবে, তত দ্রুত হার্ড ইমিউনিটি গড়ে উঠবে।

সুইডেনে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৩২ হাজার ১৭২ জন। তাদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে তিন হাজার ৮৭১ জন। সুস্থ হয়েছেন প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ।