পিপিই নিয়ে উদ্বেগ জানানো চিকিৎসককে মানসিক হাসপাতালে ভর্তি

প্রকাশ: ২২ মে ২০২০     আপডেট: ২২ মে ২০২০   

অনলাইন ডেস্ক

করোনাভাইরাসের চিকিৎসায় স্বাস্থ্যকর্মীদের ব্যবহৃত মাস্ক ও পারসোনাল প্রটেকটিভ ইকুইপমেন্টের (পিপিই) ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রথমে বরখাস্ত হয়েছিলেন ভারতের চিকিৎসক সুধাকর রাও।  এবার তাকে ভর্তি করা হয়েছে মানসিক হাসপাতালে।

 ২০ বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন অ্যানেস্থেটিস্ট ডা. রাও দুই মাসের মধ্যে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার সংবাদের শিরোনাম হলেন। 

ভাইরাল হওয়া কয়েকটি ভিডিওর উল্লেখ করে বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তম শহরের একটি সড়কে ডা. রাওয়ের সঙ্গে পুলিশের রেষারেষির ঘটনা ঘটেছে। ডা. রাও ওই শহরের বাসিন্দা এবং তিনি সেখানেই চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত। শহরটির কর্তৃপক্ষ বলেছে, তাকে পরে মানসিক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

করোনাভাইরাস মহামারির এই সময়ে চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকট নিয়ে কথা বলায় ভারতের চিকিৎসকরা প্রায়ই বিরূপ পরিস্থিতির শিকার হচ্ছেন। তার মধ্যেই ডা. রাওকে মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করার এ খবর এলো।

কী হয়েছিল ডা. রাওয়ের সঙ্গে?

গত শনিবার থেকে ঘটে যাওয়া বেশ কিছু ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, রাস্তায় নিজের গাড়ির ভেতরে খালি গায়ে বসে পুলিশের সঙ্গে চিৎকার করে কথা বলছেন ডা. রাও। অন্য একটি ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশের একজন কনস্টেবল ডা. রাওকে লাঠিপেটা করছেন। এরপরই তিনি হাত পিছমোড়া করে বাঁধা অবস্থায় রাস্তায় পড়ে যান। পরে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ওই কনস্টেবলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

শেষ ভিডিওতে পুলিশ কর্মকর্তারা উৎসুক জনতার সামনে ডা. রাওকে একটি অটোরিকশায় তোলেন। এ সময় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, পুলিশ তাকে জোর করে গাড়ি থেকে নামিয়ে মোবাইল এবং মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। এরপর বেধড়ক পেটাতে শুরু করে।

এ ঘটনার পর ভারতজুড়ে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রাজ্য সরকারের ব্যাপক সমালোচনা করেছেন অনেকে। বিরোধীদলগুলো পুলিশের বিরুদ্ধে বাড়াবাড়ি রকমের ক্ষমতা প্রয়োগের অভিযোগ এনেছে। ডা. রাও চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতির কথা বলে আগেই বরখাস্ত হওয়ায় তাকে পুলিশি হেনস্থার এ ঘটনায় আরও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

কেন বরখাস্ত হয়েছিলেন ডা. রাও?

গত ৩ এপ্রিল বিশাখাপত্তমের একটি সরকারি হাসপাতালে কর্মরত সুধাকর রাও সাংবাদিকদের বলেছিলেন, চিকিৎসকদের পর্যাপ্ত পিপিই ও মাস্ক দেওয়া হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে এ বিষয়গুলো নিয়ে কথা বললে তাকে সে বৈঠক থেকে বের হয়ে যেতে বলা হয়।

ডা. রাওয়ের এ বক্তব্য রাতারাতি ভাইরাল হয়। সরকার ডা. রাওয়ের বক্তব্যের বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দেয়। তবে তার আগেই ডা. রাওকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের না করে তিনি জনসমক্ষে কেন এ ধরনের মন্তব্য করলেন?

এর কয়েকদিন পর ডা. রাও একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি ক্ষমা চেয়ে তার সাময়িক বরখাস্তের আদেশ বাতিলের অনুরোধ জানান। তবে সরকার তাতে সাড়া দেয়নি।

ডা. রাওয়ের বক্তব্য কী?

করোনাভাইরাসের চিকিৎসা সংক্রান্ত সরঞ্জামের ঘাটতি নিয়ে কথা বলার পরই পরিবারকে নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ডা. রাও। গত শনিবার তিনি বলেন, ফোনে তাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

ডা. রাওয়ের মা কাবেরি রাও বলেছেন, তার ছেলের কোনো মানসিক সমস্যা নেই। তিনি বলেছেন. ‘আমার ছেলে একজন নামী চিকিৎসক। চিকিৎসা সরঞ্জাম নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলার পর থেকেই তাকে নানা নির্যাতনের মুখোমুখি হতে হয়েছে। মানুষ যখন ফোন করে ছেলের ব্যাপারে জানতে চায়, তখন আমার খুব খারাপ লাগে। কয়েক সপ্তাহ ধরে সে খুব মানসিক চাপের মধ্যে আছে’।

সরকার কী বলছে?

পুলিশ বলেছে, রাস্তায় একজন মাতালের উদভ্রান্ত আচরণের কথা শুনে তারা সেখানে উপস্থিত হন। তিনি রাস্তার ব্যারিকেড সরানোর চেষ্টা করছিলেন। রাস্তায় একটি মদের বোতলও ছুঁড়ে মেরেছিলেন। পুলিশ সেখানে পৌঁছানোর আগেই স্থানীয়রা তার হাত বেঁধে ফেলেছিল। বিশাখাপত্তম পুলিশ কমিশনার আর কে মিনা বলেন, ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগ পর্যন্তও তারা জানতেন না যে ওই ব্যক্তি ডা. রাও।

পুলিশের কাজে কাজে বাধা দেওয়া ও ক্ষতি করার অভিযোগে স্থানীয় একজন ডা. রাওয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। তবে অভিযোগকারীর পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। এখনও কোনো প্রত্যক্ষদর্শী সরকারি দাবির পক্ষে অবস্থান নেননি।

পুলিশ কমিশনার মিনা বলেন, ‘তিনি পুলিশের সঙ্গে অভদ্র আচরণ করেছিলেন। একজন কনস্টেবলের কাছ থেকে মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে ফেলে দেন। তিনি সম্ভবত মানসিক সমস্যায় ভুগছেন।’

ডা. রাওকে প্রথমে একটি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাকে প্রাথমিক পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানকার চিকিৎসকরা ডা. রাওকে মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করার পরামর্শ দেন। এরপর তাকে মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।