পুলিশি নিপীড়নে কৃষ্ণাঙ্গের মৃত্যুতে বিক্ষোভ-সংঘর্ষে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশ: ২৯ মে ২০২০     আপডেট: ২৯ মে ২০২০   

অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিসে পুলিশি নিপীড়নে এক কৃষ্ণাঙ্গের মৃত্যুর ঘটনায় দেশটির কয়েকটি শহরে সহিংস বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার মিনিয়াপোলিসে ব্যাপক সহিংসতার ঘটনা ঘটে। বিবিসি জানিয়েছে, এরপরই সেখানে জাতীয় রক্ষিবাহিনী মোতয়েন করে কর্তৃপক্ষ।

গত সোমবার ৪৬ বছর বয়সী জর্জ ফ্লয়েড নামের এক কৃষ্ণাঙ্গকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, রাস্তার ওপর ফ্লয়েডকে ফেলে তার ঘাড়ে হাঁটু দিয়ে মাটিতে চেপে ধরে রেখেছেন এক শ্বেতাঙ্গ পুলিশ। পরে শ্বাস বন্ধ হয়ে ফ্লয়েড মারা যান।

এই ঘটনার পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। টানা তিনদিন ধরে এ বিক্ষোভ চলছে। তবে গত বুধ ও বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নেয়।

বৃহস্পতিবার রাতে মিনিয়াপোলিসে একটি থানায় হামলা করে বিক্ষোভকারীরা। পরে সেখানে আগুন ধরিয়ে দেয় তারা। এ সময় ওই থানায় থাকা পুলিশ সদস্যদের সেখান থেকে সরে যেতে দেখা গেছে। যে শ্বেতাঙ্গ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ফ্লয়েডকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তিনি ওই থানাতেই কর্মরত ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বুধবার রাতেও মিনিয়াপোলিসে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এক পর্যায়ে পুলিশ টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় বেশ কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

শিকাগো, লস অ্যাঞ্জেলেস, মেমফিসের মতো বড় শহরগুলোতে বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যেই সামনে এসেছে পুলিশের হাতে আরও দুই আমেরিকান-কৃষ্ণাঙ্গকে হত্যার বিষয়টি। তাদের মধ্যে আহমুদ আরবারিকে হত্যা করা হয় জর্জিয়ায় এবং বেরোনা টেইলরকে হত্যা করা হয় কেন্টাকিতে।

মিনিয়াপোলিস ও সেন্ট পলসের মেয়ররা বৃহস্পতিবারের সংঘর্ষের পর মিনেসোটার গভর্নর টিম ওয়ালজকে জাতীয় রক্ষীবাহিনী মোতায়েনের অনুরোধ করেন। তিনি সে অনুরোধে সাড়া দেন ও ‘শান্তিকালীন জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করেন।

এর আগে বুধবার মিনিয়াপোলিসের মেয়র জ্যাকব ফ্রে ফ্লয়েড হত্যায় জড়িত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। যে চার পুলিশ সদস্য ফ্লয়েডকে গ্রেপ্তার করতে গিয়েছিলেন তাদের ইতোমধ্যে বরখাস্ত করা হয়েছে।

গত সোমবার সন্দেহভাজন একটি প্রতারণার ব্যাপারে খবর পেয়ে ফ্লয়েডকে ধরতে যায় পুলিশ। একজন প্রত্যক্ষদর্শীর ভিডিওতে দেখা গেছে, ফ্লয়েডের ঘাড়ে এক শ্বেতাঙ্গ পুলিশ হাঁটু দিয়ে চেপে ধরে থাকায় নিঃশ্বাস না নিতে পেরে তিনি কাতরাচ্ছেন।

এই ঘটনার দিনই আরেকটি ভিডিও ভাইরাল হয়। তাতে দেখা যায়, নিউইয়র্কে এক শ্বেতাঙ্গ নারীর পোষা কুকুর নিয়ে তুচ্ছ ঘটনা ঘটে। এরপরই পুলিশ এসে এক কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তির ওপর চড়াও হয়।

ফ্লয়েডের মৃত্যু যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশের হাতে বেসামরিক নাগরিকদের মৃত্যুর উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান সামনে এনেছে। ওয়াশিংটন পোস্টের তথ্য অনুযায়ী ২০১৯ সালে দেশটিতে এক হাজার ১৪ জন পুলিশের হাতে নিহত হন, যাদের বেশিরভাগই কৃষ্ণাঙ্গ। ম্যাপিং পুলিশ ভায়োলেন্স নামের একটি সংগঠনের দেওয়া তথ্যে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশের গুলিতে শ্বেতাঙ্গদের তুলনায় তিনগুণ বেশি মারা যান কৃষ্ণাঙ্গরা।

যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশি নির্মমতার প্রতিক্রিয়ার ফলশ্রুতিতে গড়ে উঠেছে ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’ বা ‘কৃষ্ণাঙ্গদের জীবনও মূল্যবান’ নামের একটি আন্দোলন।