মালয়েশিয়ায় করোনা হটস্পট হয়ে উঠছে অভিবাসী আটককেন্দ্রগুলো

প্রকাশ: ০২ জুন ২০২০     আপডেট: ০২ জুন ২০২০   

অনলাইন ডেস্ক

নানা রকম কড়া পদক্ষেপের মাধ্যমে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছে মালয়েশিয়া। তবে দেশটির আভিবাসী আটককেন্দ্রগুলো হয়ে উঠছে সংক্রমণের হটস্পট বা মূলকেন্দ্র। মঙ্গলবার আলজাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

গত মাসে দুই হাজারের বেশি কাগজপত্রহীন অভিবাসী শ্রমিককে আটক করে মালয়েশিয়া। পরে তাদের বিভিন্ন অভিবাসী আটককেন্দ্রে রাখা হয়। মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক ডা. নুর হিশাম আবদুল্লাহ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, অভিবাসী আটককেন্দ্রগুলোকে করোনা সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধের নামে গত মাসে কাগজপত্রবিহীন ওই সব অভিবাসী শ্রমিককে আটক করে মালয়েশিয়ার আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো। গত ২২ মে রাজধানী কুয়ালালামপুরের একটি আটককেন্দ্রে ৩৫ জন করোনা আক্রান্ত হন। চার দিন পর তিনটি কেন্দ্রে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২২৭ জনে। ৩১ মে নাগাদ চারটি কেন্দ্রে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ায় ৪১০ জনে।

ডক্টরস উইদাউট বর্ডারসের মালয়েশিয়া শাখার প্রধান বিট্রিস লাউ বলেন, করোনা সংক্রমণ রোধের নামে সরকার কাগজপত্রহীন অভিবাসী শ্রমিকদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলালেও এখন আটককেন্দ্রগুলোই হয়ে উঠেছে সংক্রমণের হটস্পট। অর্থাৎ সংক্রমণ রোধের নামে আদতে সংক্রমণ ছড়াতে সহায়তা করা হলো। কর্তৃপক্ষকে বহুবার আটককেন্দ্রগুলোতে সংক্রমণের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছিল।

গত মাসে মালয়েশিয়ায় কাগজপত্রহীন অভিবাসীদের আটক করা হলে মানবাধিকার সংস্থাগুলো এর নিন্দা জানিয়েছিল।

আন্তর্জাতিক অভিবাসী সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে, ২০১৮ সালের হিসাব অনুযায়ী মালয়েশিয়ায় ২০ থেকে ৪০ লাখ কাগজপত্রহীন অভিবাসী শ্রমিক রয়েছে। এ ছাড়া ২০ লাখ বৈধ শ্রমিক রয়েছে দেশটিতে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কমিশনের (ইউএনএইচসিআর) কাছে মালয়েশিয়ায় আশ্রয় ও শরণার্থী হতে চেয়ে এক লাখ ৮০ হাজার অভিবাসী আবেদন করেছে। তাদেরও অবৈধ আখ্যা দিয়েছে মালয়েশিয়া। করোনাভাইরাস মহামারির এই সময়টাতে আটক হওয়ার আতঙ্কে নিদারুণ কষ্টে জীবন-যাপন করছে মালয়েশিয়ার লাখ লাখ ‘অবৈধ অভিবাসী শ্রমিক’।

মালয়েশিয়ায় সব মিলিয়ে সাত হাজার ৮৫৭ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১১৫ জনের।