টাক যাদের, করোনায় বড় বিপদ তাদের: গবেষণা

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২০     আপডেট: ০৫ জুন ২০২০   

অনলাইন ডেস্ক

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে যাদের মাথায় টাক রয়েছে তারা উচ্চ ঝুঁকিতে আছেন বলে এক গবেষণায় উঠে এসেছে। যুক্তরাজ্যের ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কার্লোস ওয়াম্বিয়ার নেতৃত্বে পরিচালিত এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রথম চিকিৎসক (ফিজিশিয়ান) হিসেবে মারা যান ডা. ফ্র্যাঙ্ক গ্যাব্রিন, যার মাথায় টাক ছিল। তার নাম অনুযায়ী একে 'গ্যাব্রিন সাইন' বলছেন গবেষকরা।

অধ্যাপক কার্লোস ওয়াম্বিয়ার বলেন, 'আমরা সত্যিই মনে করি যে, টাক মাথার ব্যক্তিরা যে অধিক করোনার ঝুঁকিতে আছেন এটা নিখুঁত ভবিষ্যদ্বাণী।'

জানুয়ারিতে চীনের উহান শহরে করোনার প্রাদুর্ভাবের শুরুর পর থেকে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে, করোনায় পুরুষের মারা যাওয়ার আশঙ্কা বেশি। আর এ সপ্তাহে পাবলিক হেলথ অব ইংল্যান্ডের একটি প্রতিবেদনে দেখা গেছে, যুক্তরাজ্যে কোভিড -১৯ এ আক্রান্ত নারীদের তুলনায় কর্মক্ষম পুরুষের মারা যাওয়ার আশঙ্কা দ্বিগুণ।

এর কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা জীবনযাত্রা, ধূমপান এবং ইমিউন সিস্টেমপার্থক্যের মতো বিষয়গুলোর দিকে ইঙ্গিত করেছেন। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তারা ক্রমবর্ধমানভাবে বিশ্বাস করতে শুরু করেছেন যে, এটি পুরুষ হরমোনের কারণে হতে পারে। টেস্টোস্টেরনের মতো পুরুষ হরমোনগুলো কেবল চুল পড়ার ক্ষেত্রেই নয়, কোষে আক্রমণে করোনাভাইরাসের সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রেও এটি ভূমিকা রাখতে পারে।

অধ্যাপক ওয়াম্বিয়ার বলেন, 'আমরা মনে করি, অ্যান্ড্রোজেন বা পুরুষ হরমোনগুলো আমাদের কোষে ভাইরাস প্রবেশের পথ।'

এই গবেষণায় অধ্যাপক ওয়াম্বিয়ারের নেতৃত্বে স্পেনের দু'টি ছোট অধ্যয়ন অনুসরণ করা হয়। এতে দেখা গেছে যে, কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া পুরুষদের মধ্যে বেশিরভাগের মাথায়ই টাক রয়েছে।

সমীক্ষায় দেখা গেছে, মাদ্রিদের তিনটি হাসপাতালে কোভিড -১৯-এ আক্রান্ত পুরুষদের মধ্যে ৭৯ শতাংশ লোকের মাথায় টাক আছে। ১২২ রোগীর ওপর চালানো এ গবেষণাপত্রটি আমেরিকান একাডেমি অব ডার্মাটোলজি জার্নালে প্রকাশিত হয়। 

তবে বিজ্ঞানীরা বলেছেন, এ গবেষণা যথেষ্ট আগ্রহের সৃষ্টি করেছে। কিন্তু এটি নিয়ে আরও কাজ করা দরকার। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান