কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুর পর পুলিশ বিভাগে নানা সংস্কার আনতে তৎপরতা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরের কর্তৃপক্ষ। পুলিশি নিপীড়ন ও বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভকারীদের চাপে অনেক শহর কাউন্সিলকেই হাঁটতে হচ্ছে সংস্কারের পথে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার হিউস্টনে ফ্লয়েডকে চিরবিদায় জানান তার স্বজন, বন্ধু, সাধারণ জনতা। এদিনও যুক্তরাষ্ট্রের শহরে শহরে বিক্ষোভ অব্যাহত ছিল।

১১টি শহরের কর্তৃপক্ষ ঘাড় বা গলা চেপে ধরার পুলিশি কৌশলে ইতোমধ্যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। অর্থাৎ কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার বা আটক করতে গেলে তার ঘাড় বা গলা চেপে ধরতে পারবে না পুলিশ। সিএনএন জানিয়েছে, এ শহরগুলো হলো- ফনিক্স, লস অ্যাঞ্জেলস, সাক্রামেন্টো, সান ডিয়েগো, ব্রোওয়ার্ড কাউন্টি (ফ্লোরিডা), মিয়ামি, শিকাগো, ওয়াশিংটন ডিসি, মিনিয়াপোলিস, নিউইয়র্ক সিটি ও হিউস্টন।

দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হিউস্টনের মেয়র সিলভেস্টার টার্নার ফ্লয়েডের শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। সেখানে তিনি বলেন, এই শহরে এখন থেকে কারও ঘাড় বা গলা চেপে ধরতে পারবেন না কোনো পুলিশ সদস্য। কাউকে গুলি করতে চাইলে পুলিশ আগে সতর্কবার্তা দেবে।

গত ২৫ মে মিনিয়াপোলিসে এক শ্বেতাঙ্গ পুলিশ কর্মকর্তা রাস্তার ওপর প্রায় ৯ মিনিট ফ্লয়েডের ঘাড় হাঁটু দিয়ে চেপে ধরে ছিলেন। এক পর্যায়ে দম বন্ধ হয়ে মারা যান ফ্লয়েড। এর প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে যে নজিরবিহীন বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে তার ফলে দেশটির পুলিশ বিভাগের ইতিহাস আমূল পাল্টে যাবে বলে ধারণা অনেকের। ইতোমধ্যে মিনিয়াপোলিস শহর কর্তৃপক্ষ পুলিশ বিভাগ বিলোপের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

সিএনএন জানিয়েছে, ওয়াশিংটন ডিসির শহর কাউন্সিল সর্বসম্মতিক্রমে একটি জরুরি পুলিশ সংস্কার বিল পাস করেছে। এতে বলা হয়েছে, পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ওপর স্টান গ্রেনেড, রাবার বুলেট, টিয়ার গ্যাস, পিপার স্প্রেসহ কোনো ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার করতে পারবে না। কারও ঘাড় বা গলা চেপে ধরতে পারবে না পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ৯০ দিন এ নির্দেশনার কার্যকারিতা থাকবে। দ্বিতীয় দফা ভোটের মাধ্যমে সে মেয়াদ আরও ২২৫ দিন বাড়ানো যাবে।

ফনিক্স শহরের পুলিশ বিভাগও ঘাড় বা গলা চেপে ধরায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। সোমবার ডেমোক্র্যাট আইন প্রণেতারা কংগ্রেসে পুলিশ সংস্কারের একটি বিল তুলেছেন। স্থানীয় সময় বুধবার ফ্লয়েডের ভাই কংগ্রেসে এ সংক্রান্ত এক শুনানিতে অংশ নেবেন।

পোর্টল্যান্ডের ফেডারেল আদালত মঙ্গলবার রাতে এক নির্দেশনায় বলেছেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশ টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করেছে এমন প্রমাণ আছে। কেন পুলিশ শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করেছে তা জানতে চেয়েছেন আদালত। আগামীতে টিয়ার গ্যাস ব্যবহারে পুলিশকে আরও সচেতন হতে বলেছেন আদালত।

ফ্লয়েডের মৃত্যু নিয়ে ব্যাঙ্গ করায় নিউ জার্সিতে একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে ও আন্তর্জাতিক কুরিয়ার কোম্পানি ফেডএক্সের এক কর্মকর্তাকে তাদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান বরখাস্ত করেছে। নিউইয়র্কে বিক্ষোভকারী তরুণীকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেওয়ায় এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের অভিযোগ আনা হয়েছে।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবারও যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে পুলিশি নিপীড়ন ও বর্ণবাদবিরোধী শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ অব্যাহত ছিল বলে জানিয়েছে সিএনএন। ওয়াশিংটন ডিসি, নিউইয়র্ক, ডাকারের মতো শহরে বহু মানুষ বিক্ষোভ-প্রতিবাদে অংশ নেয়। এদিন ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসেও বর্ণবাদবিরোধী বিশাল বিক্ষোভ হয়েছে।