সিঁদুর পরতে স্ত্রীর অস্বীকার, স্বামীকে বিচ্ছেদের অনুমতি দিলেন আদালত

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২০     আপডেট: ৩০ জুন ২০২০   

অনলাইন ডেস্ক

বিয়ের পর হিন্দু নারীদের শাখা-সিঁদুর পরার রীতি বহুকাল ধরে প্রচলিত। কিন্তু বিবাহিত এক নারী শাখা-সিঁদুর পরতে অস্বীকার করায় স্বামী বিয়েবিচ্ছেদের আবেদন করেন। পরে আদালত স্বামীর পক্ষেই রায় দেন।

ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের গুয়াহাটিতে। ভারতীয় গণমাধ্যমে খবর, স্বামীর দায়ের করা বৈবাহিক আপিল বিষয়ে শুনানির পরে, প্রধান বিচারপতি অজয় লাম্বা এবং বিচারপতি সৌমিত্র সাইকিয়া সমন্বয়ে গঠিত একটি ডিভিশন বেঞ্চ পারিবারিক আদালতের একটি আদেশ স্থগিত করেন। ওই আদেশে স্ত্রীর পক্ষ থেকে স্বামীর প্রতি কোনও নিষ্ঠুর ব্যবহার পাওয়া যায়নি এই কারণেই বিয়েবিচ্ছেদের জন্য ওই স্বামীর প্রার্থনা প্রত্যাখ্যান করা হয়। পরে ওই ব্যক্তি পারিবারিক আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আবেদন করেন। গুয়াহাটির উচ্চ আদালত পরে ওই স্বামীর বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন মঞ্জুর করেন। 

উচ্চ আদালতের সেই রায়ে বলা হয়, ‘শাঁখা ও সিঁদুর পরতে স্বীকার না করলে ওই নারীকে অবিবাহিত মনে হবে, এবং / অথবা আপিলকারীর (স্বামী) সঙ্গে তিনি এই বিয়ে টিকিয়ে রাখতেও অস্বীকার করছেন বলেই ইঙ্গিত দেয়। স্ত্রী'র এই ধরণের আচরণ স্পষ্টই ইঙ্গিত দেয় যে তিনি আপিলকারীর সঙ্গে তার বিবাহিত জীবন চালিয়ে যেতে রাজি নন।’

জানা গেছে, ওই  দম্পতির বিয়ে হয় ২০১২ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু শ্বশুরবাড়ির পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ওই নারী থাকতে না চাইলে দু'জনের মধ্যে সমস্যা শুরু হয়। এরপর, ৩০ জুন, ২০১৩ সাল থেকে দুজন আলাদাভাবে থাকতে শুরু করেন।

পরে ওই নারী তার স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ এনে একটা মামলা করেন। তবে সেই অভিযোগ আদালতে টেকেনি বলেই বেঞ্চ জানিয়েছে। 

আদালতের রায়ে বলা হয়, ‘স্বামী এবং / অথবা স্বামীর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অসমর্থিত অভিযোগের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করার ঘটনা সুপ্রিম কোর্টের অবমাননার সমান।’

বিচারকরা বলেন, বাবা-মায়ের ভরণপোষণ ও বর্ষীয়ান নাগরিক আইন, ২০০৭ এর বিধান অনুসারে ওই নারী তার বয়স্ক শাশুড়ির প্রতি স্বামীর দায়িত্বপালনে বাধা দিয়েছেন। কিন্তু পারিবারিক আদালত এই বিষয়টি পুরোপুরি উপেক্ষা করেছে।

ওই আদেশে বলা হয়েছে, ‘এ ধরনের আচরণ নিষ্ঠুরতা প্রমাণের জন্য যথেষ্ট’। সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া