সৌদি রাজপরিবারের কট্টর সমালোচক ও সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যায় অভিযুক্ত ২০ সৌদি কর্মকর্তার বিচার শুরু করছে তুরস্ক।

স্থানীয় সময় শুক্রবার সকালে ইস্তাম্বুলের আদালতে বিচার শুরু হবে। খবর রয়টার্সের

ইস্তাম্বুলের কৌসুঁলিরা খাশোগিকে হত্যার অভিযোগে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের দুই সাবেক সহযোগী এবং আরও ১৮ জনকে অভিযুক্ত করেছে।

বিচারের মধ্য দিয়ে খাশোগির মরদেহ কোথায় সে সম্পর্কে নতুন তথ্যপ্রমাণ বেরিয়ে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তার বাগদত্তা হাতিস চেঙ্গিস। তিনি বলেন, আমি আশা করি তুরস্কের এই বিচারকাজের মধ্য দিয়ে খাশোগির মরদেহের সন্ধান মিলবে এবং হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে নতুন তথ্যপ্রমাণ বেরিয়ে আসবে।

জামাল খাশোগি এক সময় সৌদি রাজপরিবারের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ছিলেন। তবে এক পর্যায়ে অবস্থান পাল্টে তিনি রাজপরিবারের কঠোর সমালোচকে পরিণত হন। যুক্তরাষ্ট্রের দ্য ওয়াশিংটন পোস্টে তিনি সৌদি রাজপরিবারের নানা কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে কলাম লিখতেন। 

খাশোগি ২০১৮ সালের ২ অক্টোবর দুপুরে তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরে অবস্থিত সৌদি কনস্যুলেটে প্রবেশ করেন। পরে তিনি নিখোঁজ হন।

তুর্কি দাবি করেছিল, খাশোগিকে হত্যা করে তার লাশ টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে।

তবে খাশোগি নিখোঁজের পর সৌদি কর্মকর্তারা এই অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছিল, কনস্যুলেটে প্রবেশের কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি বের হয়ে গেছেন। পরে তারা দাবি করে, এজেন্টদের সঙ্গে ‘হাতাহাতিতে’ খাশোগির মৃত্যু হয়েছে।

সৌদি রাজপরিবারের, বিশেষ করে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের প্রত্যক্ষ মদদে খাশোগিকে ইস্তাম্বুলে হত্যা করার অভিযোগ ওঠে। সৌদি এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে। কিন্তু জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো সৌদির এ দাবিতে সন্তুষ্ট ছিল না।

পরে সৌদি আরব জানায়, সরকারি একটি বাহিনীকে ইস্তাম্বুলে পাঠানো হয়েছিল খাশোগিকে দেশে ফিরিয়ে আনতে। কিন্তু সেই ‘অভিযানটি বিশৃঙ্খল’ হয়ে পড়ায় খাশোগি খুন হয়ে যান।

এরপর সৌদি ১১ জনকে খাশোগি হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত করে। রিয়াদে একটি গোপন বিচারালয়ে তাদের মধ্যে পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ড, তিনজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও বাকিদের ছেড়ে দেওয়া হয়। খাশোগির ছেলেরা তাদের বাবার হত্যাকারীদের ‘ক্ষমা’ করে দিয়েছেন বলে পরে এক বিবৃতিতে জানান।